ঢাকা   শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

বাংলাদেশে ঘাঁটি গড়ার চেষ্টা করছে আল-কায়েদা, সতর্ক করলো জাতিসংঘ

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ১২:৪৪ এএম

বাংলাদেশে ঘাঁটি গড়ার চেষ্টা করছে আল-কায়েদা, সতর্ক করলো জাতিসংঘ

বাংলাদেশে সন্ত্রাসী সেল বা নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠার জন্য আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (একিউআইএস) চেষ্টা চালাতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ইসলামিক স্টেট (আইএস) ও আল-কায়েদা সংক্রান্ত অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিম-এর ৩৮তম প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটি ২৪৭৪ (২০২৪) সনদের অধীনে প্রস্তুত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে দিল্লির লাল কেল্লায় হামলা আনুষ্ঠানিকভাবে একিউআইএস চালিয়েছিল বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সংগঠনটি বাংলাদেশকে ঘাঁটি বানিয়ে সন্ত্রাসী সেল গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের বর্তমান নিষেধাজ্ঞা তালিকার বাইরে থাকা একিউআইএস একটি খণ্ডিত সংগঠন থেকে ধীরে ধীরে একটি আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংস্থায় রূপান্তরিত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বর্তমানে গোষ্ঠীটি বৃহৎ কোনও সাংগঠনিক ইউনিটের বদলে বিকেন্দ্রীভূত, ছোট ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সেল বা নেটওয়ার্কের ওপর বেশি নির্ভর করছে এবং লজিস্টিক ও আর্থিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে বিশ্বব্যাপী হুমকির মাত্রা অপরিবর্তিত থাকলেও সাহেল অঞ্চল এবং দক্ষিণ এশিয়ায় এটি আরও তীব্র হয়েছে। তবে আল-কায়েদার উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্ব বর্তমানে কিছুটা কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে এবং তাদের আন্তর্জাতিক পরিসরে বড় কোনও অভিযান পরিচালনা করার সক্ষমতা এখনও অস্পষ্ট।

দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বিশেষ করে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তজুড়ে হামলা পাল্টাহামলার প্রেক্ষাপটে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) কর্তৃক পাকিস্তানে একের পর এক হামলার কারণে এই উত্তেজনা বেড়েছে। প্রকাশ্যে অস্বীকার করলেও আফগানিস্তানের তালেবান এখনও টিটিপিকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

জাতিসংঘের মনিটরিং টিম জানিয়েছে, আফগানিস্তান থেকে উদ্ভূত সন্ত্রাসী হুমকি এখনও পূর্বের মতোই রয়েছে। সেখানে অসংখ্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে, যা প্রতিবেশী দেশগুলো এবং মধ্য এশিয়ার জন্য একটি স্থায়ী হুমকি। যদিও তালেবান কর্তৃপক্ষ ইসলামিক স্টেট খোরসান (আইএসআইএল-কে)-সহ অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে, তবে তারা পুরোপুরি এই সন্ত্রাসী হুমকি দমন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সাহেল অঞ্চল, সোমালিয়া, ইয়েমেন এবং মধ্য আফ্রিকায় আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের নানা তৎপরতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সাহেল অঞ্চলে জামাত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়া আল-মুসলিমিন (জেএনআইএম) মালি সরকারের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং সেই সাথে গ্রেটার সাহারায় ইসলামিক স্টেটের সাথে তাদের দ্বন্দ্ব তীব্র হয়েছে। অন্যদিকে, নিরাপত্তা শূন্যতার সুযোগে দক্ষিণ ইয়েমেনে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে আল-কায়েদা ইন দ্য এরাবিয়ান পেনিনসুলা (একিউএপি) এবং মধ্য আফ্রিকায় এলাকা বাড়িয়েছে অ্যালফ্রেড ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এডিএফ)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থ সংগ্রহ এবং স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে দুর্বল করার কৌশল হিসেবে আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের অঙ্গসংগঠনগুলো এখনও মুক্তিপণের জন্য অপহরণের ঘটনাকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন