পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বাবার দ্বিতীয় বিয়েতে অসম্মতি এবং মৃত মায়ের রেখে যাওয়া স্বর্ণালংকার ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে নিজ বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ছেলে প্রবীর মিত্রের (২৩) বিরুদ্ধে। হত্যার পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে তিনি ‘মুখোশধারী দুর্বৃত্তের ডাকাতি’র নাটক সাজিয়েছিলেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত ওই কৃষকের নাম পুলিন মিত্র (৫৩)। গত শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার নিজ বসতঘরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
পারিবারিক ও মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে পুলিন মিত্রের স্ত্রী মারা যান। এরপর তিনি তাঁর বৃদ্ধা মা ও ছেলে প্রবীরকে নিয়ে একই ঘরে বসবাস করে আসছিলেন। সম্প্রতি বৃদ্ধা মায়ের সেবা-যত্ন ও রান্নাবান্নার সুবিধার জন্য পুলিন দ্বিতীয় বিয়ে করার ইচ্ছার কথা পরিবারকে জানান। একই সঙ্গে ছেলে প্রবীরের কাছে থাকা মৃত স্ত্রীর স্বর্ণের চেইন ও ঝুমকা ফেরত চান তিনি। মূলত এ নিয়েই বাবা ও ছেলের মধ্যে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই বিরোধের জেরে শুক্রবার গভীর রাতে বাবা-ছেলের মধ্যে তুমুল বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে প্রবীর ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর বাবাকে ঘুষি ও এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে পুলিন মিত্র গুরুতর আহত হন এবং তাঁর কান দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পরদিন শনিবার সকালে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে প্রবীর প্রচার করতে থাকেন যে, রাতে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে তাঁর বাবাকে অচেতন করে হত্যা করেছে এবং স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে। ঘটনাটি বিশ্বাসযোগ্য করতে তিনি নিজেও অচেতন হওয়ার ভান করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি হন।
খবর পেয়ে শনিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পুলিন মিত্রের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এ সময় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রবীরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাঁর কথাবার্তায় অসংলগ্নতা ধরা পড়ে। সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
মঠবাড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ চক্রবর্তী জানান, পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে প্রবীর নিজেই তাঁর বাবাকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই যোগেন মিত্র বাদী হয়ে রোববার সকালে প্রবীর মিত্রকে একমাত্র আসামি করে মঠবাড়িয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, “নিহত পুলিন মিত্রের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গ্রেপ্তার প্রবীর মিত্র আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”






