স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে জানিয়েছেন, মব-সহিংসতা ও আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার প্রবণতা প্রতিরোধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ অনুসরণ করছে। তিনি বলেন, অপরাধের বিচার করার একচ্ছত্র কর্তৃত্ব রাষ্ট্রের। আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে শাস্তি দেয়া বা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
মব সহিংসতা ও আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার প্রবণতা প্রতিরোধ এবং আইনের শাসন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ‘সহিংসতা বা গণপিটুনির ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। একইসঙ্গে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে—এমন সন্দেহভাজন এলাকায় নিয়মিত তল্লাশি ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।’
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান টহল জোরদারের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’
এছাড়া কোনো ধরনের উগ্রতা যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য এলাকার মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে যাতে কেউ মব-সহিংসতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে, সে বিষয়েও নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ফেসবুক, টুইটারসহ জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এআর






