দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে রাজশাহী মহানগর অধীনস্থ রাজপাড়া থানা বিএনপির কমিটির সকল কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে নগরীর ভুবন মোহন পার্কে রাজশাহী মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের এক প্রস্তুতি সভা চলাকালে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. মামুন অর রশিদ মামুন ও সাধারণ সম্পাদক (এবং রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক) মো. মাহফুজুর রহমান রিটন তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘোষণা দেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, ভুবন মোহন পার্কে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বক্তব্য দেওয়াকালীন রাজপাড়া থানা বিএনপির সভাপতি মো. মিজানুর রহমান মিজান একটি ঘটনার বিচার দাবি করেন। এ সময় মাহফুজুর রহমান রিটন তাকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, “সভা শেষে আপনাদের নিয়ে আলাদাভাবে বসব।”
তবে এতে সন্তুষ্ট না হয়ে রাজপাড়া থানা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান এবং সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা মঞ্চে উপস্থিত মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্যে করে উচ্চবাচ্যে বিষোদগার শুরু করেন। এতে সভাস্থলে উপস্থিত অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। পরবর্তীতে তাদের শান্ত হয়ে বসতে বলা হলেও তারা তা না মেনে সভা ত্যাগ করে চলে যান।
উদ্ভূত পরিস্থিতিকে গুরুতর দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করে রাজপাড়া থানা বিএনপির কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করার প্রস্তাব করেন সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন। তার প্রস্তাবের সাথে একমত পোষণ করে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মো. মামুন অর রশিদ মামুন রাজপাড়া থানা বিএনপির কমিটির কার্যক্রম স্থগিতের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন।
উক্ত প্রস্তুতি সভায় মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি আসলাম সরকার, শফিকুল ইসলাম শফিক, জয়নাল আবেদিন শিবলী, মোকতার হোসেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রবিউল আলম মিলু উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন—
যুবদল: মহানগর আহ্বায়ক মো. শরিফুল ইসলাম জনি। স্বেচ্ছাসেবক দল: আহ্বায়ক মীর তারিক খালিদ ও সদস্য সচিব মো. আসাদুজ্জামান জনি। ছাত্রদলের মহানগর আহ্বায়ক মো. রাকিন রায়হান রবিন ও সদস্য সচিব মো. এমদাদুল হক লিমন। কৃষক দলের আহ্বায়ক মো. সরফুজ্জামান শামীম ও সদস্য সচিব মো. আশরাফুল হক।
শ্রমিক দলের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম পাখি ও সদস্য সচিব রফিক উদ্দিনসহ রাজশাহী মহানগর বিএনপির অধীনস্থ ৭টি থানা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।






