ঢাকা   শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

বন্দুক হাতে দুই তরুণের ভিডিও ভাইরাল, নারায়ণগঞ্জে তোলপাড়

Authorস্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৪ পিএম

বন্দুক হাতে দুই তরুণের ভিডিও ভাইরাল, নারায়ণগঞ্জে তোলপাড়

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নগর পার্কে (সাবেক শেখ রাসেল পার্ক) দুই তরুণের বন্দুক দেখিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের ভয় দেখানো বা বন্দুক দেখিয়ে মানুষের প্রতিক্রিয়া ধারণ করার ভিডিও নিয়ে নগরজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ভিডিও দেখে অনেকে বলছেন, বর্তমান সময়ে এ ধরনের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া ঠিক হয়নি। এই ভিডিওর মাধ্যমে বিদেশিদের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা ছড়িয়ে পড়তে পারে। আবার কেউ বলছেন, প্রশাসন যেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, অনেকটা আফগানিস্তানের মানুষের স্টাইলের লম্বা কুর্তি আর পায়জামা পরে, মাথায় টুপি লাগিয়ে বড় বড় দুটি বন্দুক হাতে নিয়ে দুই তরুণ পার্কে প্রবেশ করে যাকে পাচ্ছেন তাকেই বন্দুক তাক করছেন। রিকশাচালক থেকে পথচারী, এমনকি শিশুও বাদ যাচ্ছে না। কেউ থমকে যাচ্ছেন, কেউ আতঙ্কে সরে যাচ্ছেন, কেউ আবার অবাক চোখে তাকিয়ে থাকছেন। আর পেছন থেকে মানুষের ভয়, আতঙ্কের মুহূর্ত (ভিডিও) ক্যামেরায় ধারণ করছেন ক্যামেরাম্যান।

সেই ভিডিও ‘ভাইবোন’ নামে একটি টিকটক পেজ থেকে আপলোড করা হলে তা দ্রুতই ভাইরাল হয়। মাত্র ৩৫ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, আফগান পোশাক পরে দুই তরুণ পার্কে মানুষকে বন্দুক তাক করে ভয় দেখাচ্ছেন।

এই ভিডিও নিয়ে সমালোচনা করছেন নেটিজেনরা। কেউ বলছেন অবাধে ব্যবহার হচ্ছে অস্ত্র। আবার কেউ বলছেন, এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় অনেক সুযোগ নিতে পারে।

তবে ভিডিওটি বাস্তব কোনো অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা নয়, মানুষের প্রতিক্রিয়া ধারণ করতে পরিকল্পিতভাবে এটি বানানো বলে দাবি করেছেন দুই তরুণের একজন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভাইরাল হওয়ার নেশায় ভিডিও নির্মাণ করেছেন নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার বাসিন্দা লিমন তোহা ও ইয়াসিন। লিমন তোহা নারায়ণগঞ্জ শহরের দিগুবাবুর বাজার এলাকায় পৈতৃক দোকানে বসেন। দোকানে ব্যবসার পাশাপাশি ভিডিও তৈরি করেন। সেই ভিডিও টিকটক, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন পেজে আপলোড করেন। ইয়াসিন মূলত লিমন তোহার ভিডিও ধারণে (ক্যামেরাম্যান) সহযোগিতা করেন।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বন্দুক হাতে ভিডিওটি প্রথমে টিকটকের ‘ভাইবোন’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়। ওই অ্যাকাউন্টে লিমন ও তার বোন বিভিন্ন ধরনের ভিডিও তৈরি করে প্রকাশ করেন। পরে একই ভিডিও ‘লিমন সিন্স ২০০৪’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ও ‘ওয়াফি লিমন’ নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা হয়। তিনটি অ্যাকাউন্টই লিমনের বলে তিনি দাবি করা হয়েছে।

লিমন তোহা বলেন, টিকটকে এ ধরনের ভিডিওর ট্রেন্ড দেখে তিনি এটি তৈরি করেন। বন্দুক দেখে সাধারণ মানুষের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ধারণ করা।

লিমন দাবি করেন, এটি মূলত ফানি ভিডিও হিসেবে বানানো; কিন্তু ফেসবুকে দেওয়ার পর অনেকে এটিকে নেতিবাচকভাবে প্রচার করেছেন। আমরা মানুষের ভয় পাওয়ার অংশটুকু প্রকাশ করেছি। পরে তারা যে মজা করেছেন, সেই অংশটি প্রকাশ করিনি।

পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের সিনেমা ও নাটক দেখেন তিনি। সেসব নাটক ও সিনেমার কিছু দৃশ্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের মতো করে ভিডিও তৈরি করেন। পাকিস্তানি ভিডিও ও নাটকের আদলে তৈরি করা কনটেন্টে বেশি সাড়া পান। এরপর ওই ধরনের ভিডিও বানানোর প্রবণতা বাড়ে। নিজের কনটেন্ট নিয়ে নানা সমালোচনা হলেও দেশের প্রতি তার অবস্থান স্পষ্ট বলে দাবি করেন লিমন।

বন্দুক দেখিয়ে মানুষকে ভয় দেখানো কাজ কি সঠিক—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা অপরাধ কিনা বুঝতে পারছি না। এটা শুধুই মজা করে তৈরি করা।

নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি সাজেদুর রহমান বলেন, এমন কোনো ভিডিওর বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হবে। কে বা কারা এই ভিডিও তৈরি করেছে তাদের সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হবে। তবে এ নিয়ে পুলিশের কাছে লিখিত বা মৌখিকভাবে কেউ অভিযোগ দেননি।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন