রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবিতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আয়োজকরা ব্যানার ফেলে চলে যান।
পুলিশ বলছে, রংপুরে চার হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচারের দাবিতে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর ধানমন্ডি-২৭ নম্বর সড়কে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’, ‘সচেতন প্রকৌশলী সমাজ’ ও ‘সচেতন শিক্ষক সমাজ’-এর ব্যানারে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ হয়।
সমাবেশ শেষে একজন ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। এ নিয়ে সমাবেশে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে এর আগেই আয়োজকরা সেখান থেকে চলে যান।
জানা গেছে, সমাবেশের সংগঠকদের একজন ছিলেন অ্যাক্টিভিস্ট ও চারুশিল্পী কামাল পাশা চৌধুরী। সমাবেশে তিনি বলেন, ‘গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। ছবিতে দৃশ্যমান নিষ্পাপ মুখগুলো বারবার আমার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। আমার হৃদয় ব্যথিত, আমি চোখের জল ধরে রাখতে পারছি না। আমরা কেমন সমাজে বাস করছি? এ দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা কী শিখছি? আমরা কি একটি বর্বর জাতিতে পরিণত হচ্ছি?’
তিনি বলেন, ‘৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা একটি দেশ পেয়েছি এবং স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আমাদের চোখের সামনে এই স্বাধীনতাকে ধ্বংস হতে দিতে পারি না। সে কারণেই আমরা রাস্তায় নেমেছি। বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিবাদ সমাবেশ যেন করতে না পারি, সেজন্য আমাদের কাছে বিভিন্নভাবে ফোনকল এসেছে।’
কামাল পাশা চৌধুরী ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন। এরপর তিনজন ব্যক্তি এসে ওই স্লোগানের প্রতিবাদ জানান।
তাদের একজন নিজের পরিচয় না দিয়ে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল। আপনারা এটিকে একটি সামাজিক প্রতিবাদ কর্মসূচি বলছেন, তাহলে আপনারা কেন জয় বাংলা স্লোগান দিচ্ছেন?’ এ নিয়ে প্রতিবাদকারী ও আয়োজকদের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ বাগবিতণ্ডা হয়। পরে তারা সমাবেশস্থল ত্যাগ করেন।
সমাবেশে অংশ নেওয়া ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একটি অংশের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মুজতবা ধ্রুব বলেন, ‘পূর্বনির্ধারিত একটা প্রোগ্রাম ছিল। শতাধিক লোকজন সেখানে সমবেত হয়। কামাল পাশাসহ দুই-তিনজন বক্তব্য রাখেন। সেখানে কামাল ভাই (কামাল পাশা) বক্তব্যের পর জয় বাংলা স্লোগান দেন। এ সময় সেখানে দুই-তিনটা ছেলে প্রতিবাদ জানিয়ে বলে, ‘সামাজিক প্রোগ্রামে কেন জয় বাংলা স্লোগান দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগ তো নিষিদ্ধ।’ এটা নিয়ে কিছুক্ষণ বাগবিতণ্ডা হয়। পরিবেশটা একটু উত্তপ্ত হয়ে পড়ায় আগতরা দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।’
এ বিষয়ে কামাল পাশা চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রোগ্রাম শেষ করে দেওয়ার পর সবাই যখন আড্ডা দিচ্ছিল, তখন কয়েকজন এসে চিৎকার করে। একটু বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে সবাই। এরপরে আবার পুলিশ আসছে, প্রায় এক ঘণ্টা পর। সেখানে চেক-টেক করছে। তবে কাউকে আটক করছে বলে শুনি নাই।’
মোহাম্মদপুর থানার ওসি আব্দুল হালিম বলেন, ‘রংপুরের চার হত্যাকাণ্ডে নিহতদের ছবি নিয়ে তারা সচেতন প্রকৌশলী সমাজের ব্যানারে দাঁড়িয়ে ছিল। সেখানে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কথা বলতে বলতে পেছন থেকে ‘‘জয় বাংলা” বলছে। আমরা গিয়ে ব্যানার ধরছি আর লোকগুলো পালিয়ে গেছে। আমরা সেখানে আগতদের শনাক্ত করেছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’
ঘটনাস্থল থেকে কয়েকটি ব্যানার জব্দ করা হয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, ‘এই ঘটনায় মামলা হবে।’






