ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হলে এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর পক্ষেও তেল বিক্রি করা সম্ভব হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। হরমুজ প্রণালি ও ইরানের জ্বালানি রপ্তানি ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই শুক্রবার (২৮ আগস্ট) তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।
মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আগে দেওয়া একটি বার্তা পুনরায় প্রকাশ করে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেন।
গালিবাফ বলেন, বর্তমান যুদ্ধের সমীকরণ ‘অত্যন্ত স্পষ্ট’। তাঁর ভাষায়, হয় সবাই তেল বিক্রি করবে, নয়তো কেউ পারবে না। ইরান যে অঞ্চলে তেল বিক্রি করতে পারবে না, সেখানে অন্য কোনো দেশও তেল বিক্রি করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়েও কঠোর বার্তা দেন ইরানের স্পিকার। তিনি বলেন, ইরানের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এই অঞ্চলের কোনো অবকাঠামোই নিরাপদ থাকবে না।
ইরানের তেল রপ্তানির জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়। ফলে জলপথটিতে যেকোনো বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। তেহরান জলপথটির ওপর নিজেদের কৌশলগত অবস্থান বজায় রাখার কথা বলে আসছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক নৌপথ উন্মুক্ত রয়েছে এবং জাহাজ চলাচলের সুযোগ রয়েছে। তবে জলপথটির প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পরস্পরবিরোধী দাবির স্বাধীন কোনো যাচাই পাওয়া যায়নি।
হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সরবরাহ ব্যাহত হলে তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
গালিবাফের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ইরান তাদের তেল রপ্তানির ওপর কোনো দীর্ঘমেয়াদি বাধা মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। একই সঙ্গে তেহরান হরমুজ প্রণালিকে আঞ্চলিক চাপ প্রয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মাধ্যম হিসেবে দেখছে।
তবে ইরান বাস্তবে অন্য দেশগুলোর তেল রপ্তানি বন্ধ করতে কী ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে, সে বিষয়ে গালিবাফ বিস্তারিত কিছু বলেননি।
তথ্যসূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি, মিডল ইস্ট আই






