গুমের প্রতিটি ঘটনার সত্য উদঘাটন, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অপরিহার্য শর্ত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
আজ শনিবার গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না।
আগামী ৩০ আগস্ট দিবসটি পালিত হবে।বাণীতে রুহুল কবির রিজভী বিশ্বের সব গুমের শিকার ব্যক্তি, তাদের পরিবার ও স্বজনদের প্রতি গভীর সহমর্মিতা ও সংহতি জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বিগত বছরগুলোতে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের সময়ে গুমের শিকার প্রত্যেক ব্যক্তিকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, গুম শুধু একজন মানুষকে পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া নয়; এটি মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা, ন্যায়বিচার ও জীবনের অধিকারের ওপর নির্মম আঘাত। বছরের পর বছর প্রিয়জনের ফিরে আসার অপেক্ষা, তার ভাগ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং সত্য জানার অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার যন্ত্রণা কোনো পরিবারেরই বহন করা উচিত নয়।রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে গুম রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও ভিন্নমত দমনের ভয়াবহ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, মানবাধিকারকর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীসহ বহু মানুষ এর শিকার হয়েছেন। অনেক পরিবার এখনও জানে না, তাদের প্রিয়জন কোথায় বা কী অবস্থায় আছেন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের অপেক্ষা জাতীয় বিবেকের সামনে গভীর দায় হয়ে আছে।
বাণীতে তিনি বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে, গুমের প্রতিটি ঘটনার সত্য উদঘাটন, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অপরিহার্য শর্ত। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না।
একই সঙ্গে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সত্য জানার অধিকার, ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ ও যথাযথ পুনর্বাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান রুহুল কবির রিজভী।তিনি বলেন, বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে রাষ্ট্রের কোনো সংস্থা আর কখনো নাগরিকের বিরুদ্ধে গুমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে না। আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনী জবাবদিহির আওতায় থাকবে এবং রাজনৈতিক পরিচয় বা মতভিন্নতার কারণে কোনো নাগরিকের জীবন, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে না।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আজকের এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক- আর কোনো গুম নয়, আর কোনো পরিবারকে অনন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে না।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, যারা এখনও নিখোঁজ, তাদের প্রত্যেকের ভাগ্য ও অবস্থান সম্পর্কে সত্য প্রকাশ করতে হবে। যারা ফিরে এসেছেন, তাদের অভিজ্ঞতার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। আর যারা আর কখনো ফিরে আসবেন না, তাদের পরিবারকে সত্য, স্বীকৃতি ও বিচার দেওয়ার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।বাণীর শেষে গুমের শিকার সব ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সংহতি জানান রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে বিএনপি তাদের পাশে থাকবে।






