‘এই যে জুলাই জঙ্গি, যিনি দেশের বিরুদ্ধে, বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে—এই যে দেখতে পাচ্ছেন, ভেনিসে আসছে। আমরা ভেনিস ছাত্রলীগ…এই ডিম আনো, ডিম আনো। বাংলাদেশটাকে ধ্বংস করছে। আমরা এই দেশদ্রোহী জঙ্গিকে গোসল করিয়ে দিয়েছি। এই জুলাই যোদ্ধা বাংলাদেশটাকে ধ্বংস করছে। সাজানো-গোছানো বাংলাদেশটাকে ধ্বংস করছেন। জুলাই জঙ্গি আমাদের মাঝে আসছে।’
চিৎকার-চেঁচামেচির মধ্যে এসব কথা শোনা যায়। এর মধ্যেই একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘বাচ্চা আছে আমার। কী করছেন এগুলো?’
অপর পাশ থেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে জবরদস্তি করা হয়। সেখানে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘ওরা দেশটাকে ধ্বংস করছে।’ একপর্যায়ে তাদের একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা ইতালির ছাত্রলীগ। বাংলাদেশের যেকোনো প্রান্তে যাবে, তাদের আমরা প্রতিহত করব।’
এই চিত্র ছিল ইতালির মেস্ত্রে শহরের একটি পার্কের রাস্তায় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার সময়ের।
স্থানীয় সময় সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটে। পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বাঁধন জানান, ইতালির মেস্ত্রের একটি পার্কে ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে আঘাত করেন। এ সময় তাঁর গায়ে কোক ও ডিম ছোড়া হয়, তাকে আঘাত করা হয় এবং তার মুঠোফোনও ছুড়ে ফেলা হয়।
এ ঘটনা ফেসবুকে লাইভ করছিলেন মনিরুল হাওলাদার নামের একটি অ্যাকাউন্টের ব্যবহারকারী। ওই লাইভের ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘জুলাই জঙ্গি আজমেরী হক বাঁধনকে আমরা উত্তম মাধ্যম দিয়েছি ভেনিসে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ইতালি শাখা।’
এই মনিরুলের বাড়ি বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলায়। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও মনিরুলের স্বজন সূত্রে জানা গেছে, তিনি ছাত্রলীগের একটি ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি বাংলাদেশ ছেড়ে প্রথমে লিবিয়া এবং পরে ইতালিতে যান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বাঁধনের ওপর হামলা ও হেনস্তার ঘটনার বিভিন্ন ভিডিও বিশ্লেষণ করে এ ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করা গেছে। তাদের কাউকে বাঁধনের গায়ে পানি ছুড়তে, কাউকে শাসাতে, কাউকে হামলার দৃশ্য ধারণ করতে এবং কাউকে শারীরিকভাবে আঘাতের চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
পানি ছুড়তে দেখা যায়
ভিডিওতে বাঁধনের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বারবার পানি ছুড়ে দিতে দেখা যাওয়া ব্যক্তির নাম শিপল মাহমুদ বিপ্লব। তার বাড়ি বাংলাদেশের শরীয়তপুরে। শরীয়তপুরের ছাত্রলীগ নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, তিনি ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। বর্তমানে তিনি ইতালির ভেনিস শাখা আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত।
বাঁধনকে থাপ্পড় দেওয়ার চেষ্টা
ভিডিওতে বাঁধনের দিকে এগিয়ে গিয়ে তাকে থাপ্পড় দেওয়ার চেষ্টা করা ব্যক্তিদের একজন ইলিয়াস মিয়ার পরিচয় পাওয়া গেছে। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। ইতালির ভেনিস শাখা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে ইলিয়াসের উপস্থিতির একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া গেছে।
ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, ইলিয়াস এগিয়ে গিয়ে বাঁধনকে থাপ্পড় দেওয়ার চেষ্টা করেন। আঘাত লাগে অভিনেত্রীর হাতে। তখন বাঁধনের মুঠোফোন হাত থেকে পড়ে যায়।
বাঁধনকে শাসাতে দেখা যায়
ভিডিওতে বাঁধনের আশপাশে থাকা এবং তাকে একাধিকবার শাসাতে দেখা যায় কয়েকজনকে। তাদের একজন আলতাফ পাহাড়। তার বাড়ি শরীয়তপুরে। তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি ইতালির ভেনিসে যুবলীগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, এমন তথ্যও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে।
ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিওতে আলতাফকে অপেক্ষাকৃত সামনের সারিতে দেখা যায়। কয়েকটি দৃশ্যে তিনি বাঁধনকে শাসাচ্ছেন এবং আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে কথা বলতে দেখা গেছে।





