তুরস্ককে ঘিরে ইসরাইলের শত্রুতামূলক কোনো তৎপরতা মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ান।
সোমবার আংকারায় মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে দেওয়া বক্তব্যে এরদোয়ান এ সতর্কবার্তা দেন।
তিনি বলেন, তুরস্কের শান্ত ও সংযত অবস্থানকে কেউ যেন দুর্বলতা হিসেবে না দেখে। স্বাধীন, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে তুরস্কের অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না।
এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক কোনো দেশ, সমাজ, ধর্ম বা সংস্কৃতির বিরুদ্ধে নয়। তবে যেখান থেকেই অবিচার, নিপীড়ন ও বেআইনি কর্মকাণ্ড আসুক, তুরস্ক তার বিরুদ্ধে থাকবে। আঞ্চলিকভাবে তুরস্ককে ঘিরে ফেলার শত্রুতামূলক পদক্ষেপও তারা মেনে নেবে না।
ইসরাইলের কর্মকাণ্ড নিয়ে সরাসরি অভিযোগ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের জন্য ইসরাইলকে দায়ী করেন এরদোয়ান। তার অভিযোগ, ইসরাইলের উসকানি ও কর্মকাণ্ডের খেসারত শুধু ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোকে দিতে হচ্ছে না। এর প্রভাব পড়ছে পুরো অঞ্চলের ওপর।
ইসরাইলের ‘মিথ্যাচার ও নাশকতার’ কারণে ইসলামাবাদ সমঝোতাও কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরদোয়ান বলেন, শান্তির সামান্য সম্ভাবনাকেও যারা হুমকি হিসেবে দেখে, সেই ‘চরমপন্থি মানসিকতা’ না বদলানো পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের ঝড় থামবে না।
এরদোয়ানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও উত্তেজনা বাড়ছে। এর আগে তিনি ইসরাইলের হামলার প্রভাব তুরস্কের নিরাপত্তার ওপরও পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন।
এসসিওর সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করবে তুরস্ক
আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদারের ঘোষণা দিয়েছেন এরদোয়ান।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক ঐক্য ও সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি। এসসিওর সঙ্গে সম্পর্ক আরো উন্নত করার পাশাপাশি তুরস্ক আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য কাজ করে যাবে।
জাহাজডুবিতে উদ্ধার তৎপরতা
উত্তর সাইপ্রাসের উপকূলে জাহাজডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের উদ্ধারে তুরস্কের সহায়তার কথাও জানান এরদোয়ান। তিনি বলেন, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে তুরস্ক ৯টি জাহাজ ও ১১টি বিমান দিয়ে সহায়তা করছে।
সংকটের মধ্যেও অর্থনীতিতে নজর
আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেও তুরস্কের অর্থনীতিকে প্রবৃদ্ধির পথে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, অর্থনীতির লক্ষ্য অর্জনে কিছু সমন্বয় করতে হলেও উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির পথ থেকে তুরস্ক সরে যাবে না।
দেশটির অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী, প্রতিযোগিতামূলক ও স্থিতিশীল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
জনগণের কল্যাণ বাড়ানো এবং অর্থনীতির কাঠামোগত সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ করার কথাও বলেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।
অর্থাৎ, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ যখন তীব্র হচ্ছে, তখন ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তুরস্কের অবস্থান আরো কঠোর করার বার্তাই দিলেন এরদোয়ান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখার ওপরও জোর দিয়েছেন তিনি।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি






