সেই গল্পের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়টির সামনে দাঁড়িয়ে মেসি ও দি মারিয়া
স্পোর্টস ডেস্ক : ফুটবল মাঠে দুজনের গল্প যেন একই অধ্যায়ের দুই উজ্জ্বল চরিত্র। একজন লিওনেল মেসি, অন্যজন অ্যাঞ্জেল দি মারিয়া। আর্জেন্টিনার জার্সিতে দীর্ঘ পথচলায় কত জয়, কত কান্না, কত অপূর্ণতা আর শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের সোনালি মুহূর্ত সবকিছুরই সাক্ষী তারা। এবার সেই গল্পের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়টির সামনে দাঁড়িয়ে দুজনই।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচ। ৬ অক্টোবর বুয়েনস এইরেসের ঐতিহাসিক মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে শেষবার মাঠে নামবেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। আর সেই বিদায়ের দিনে গ্যালারিতে উপস্থিত থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার দীর্ঘদিনের সতীর্থ ও বন্ধু অ্যাঞ্জেল দি মারিয়া।
রোসারিও সেন্ট্রালের হয়ে আর্জেন্টিনার ক্লাউসুরায় আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ের পর মেসির বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে কথা বলেন দি মারিয়া। জাতীয় দলের বর্তমান স্কোয়াডে জায়গা না থাকলেও মেসির শেষ মুহূর্তটি নিজের চোখে দেখতে চান তিনি।
দি মারিয়া বলেন, “আমাকে তো স্টেডিয়ামে থাকতেই হবে, তাই না? আমাকে এটা দেখতে যেতে হবে। আমরা ৫ অক্টোবর বানফিল্ডের বিপক্ষে খেলব। তাই হয়তো সেখান থেকেই থাকব, পথেই তো পড়বে, হাহা।”
কথাগুলোতে রসিকতা থাকলেও এর ভেতরের আবেগটা স্পষ্ট। কারণ মেসির সঙ্গে দি মারিয়ার সম্পর্ক শুধুই সতীর্থের নয়, আর্জেন্টিনার ফুটবলের সবচেয়ে স্মরণীয় সময়গুলোর অন্যতম অংশীদার তারা। ২০২১ কোপা আমেরিকার শিরোপা, ২০২২ বিশ্বকাপ সব বড় অর্জনের পথেই ছিল তাদের একসঙ্গে হাঁটা।
আর তাই মেসির বিদায়ের মুহূর্তটিকে শুধুই একটি প্রীতি ম্যাচ হিসেবে দেখছেন না দি মারিয়া। বরং এটি তার কাছে একটি যুগের শেষ মুহূর্ত।
“এত বছর পর আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জন্য মেসিকে ছাড়া সময়টা কঠিন হবে। পুরো বিশ্বের জন্য সে যা করেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তার জাতীয় দলের শেষ দিনটা উপভোগ করব।” বলেন দি মারিয়া।
৬ অক্টোবরের ম্যাচটিকে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আনুষ্ঠানিক বিদায়ী আয়োজন হিসেবে ঘোষণা করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পরও তাকে এই ম্যাচে খেলার জন্য দলে রাখা হয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া জানিয়েছেন, দেশের মাটিতে মেসিকে তার প্রাপ্য বিদায় দেওয়াই এই আয়োজনের উদ্দেশ্য।
মেসির বিদায়ের মঞ্চে থাকার কথা রয়েছে তার দীর্ঘদিনের আরো কয়েকজন সতীর্থের। রদ্রিগো দি পল ও জিওভানি লো সেলসোও ওই ম্যাচের জন্য দলে রয়েছেন। কাতার বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যদের পরিবারসহ মনুমেন্টালের গ্যালারিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
একসময় যে মাঠে মেসির পায়ের জাদুতে আর্জেন্টাইন সমর্থকেরা উল্লাসে ফেটে পড়েছেন, সেই মনুমেন্টালেই এবার তাকে বিদায় জানাবে একই মানুষগুলো। এবার হয়তো গোলের পর মেসির সেই পরিচিত উদযাপনের চেয়ে বেশি মনে থাকবে তার দিকে তাকিয়ে থাকা হাজারো চোখ, শেষবারের মতো জাতীয় দলের জার্সিতে তাকে দেখার আকুলতা।
আর গ্যালারির কোথাও দাঁড়িয়ে থাকবেন দি মারিয়া। সতীর্থ হিসেবে মেসির সঙ্গে যে পথচলা শুরু হয়েছিল বহু বছর আগে, তার শেষ দৃশ্যটিও তিনি দেখতে চান নিজের চোখে।






