এবার যে আশঙ্কার কথা জানালেন অপ্রতিমের মা-বাবা
এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : কুমিল্লায় আলোচিত ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর পরিবারের সদস্যরা চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন। তার মা ড. নাহিদা বেগমের আশঙ্কা, গডফাদারদের পরবর্তী টার্গেট হতে পারেন তিনি ও তার স্বামী।
যারা অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা করেছে, তারা পরে ভুক্তভোগী পরিবারের যে কোনো সদস্যকে হত্যা করতে পারে। এছাড়া ঘাতকরা কিশোর সংশোধনাগার থেকে দ্রুত বেরিয়ে পরের টার্গেট কিলিং মিশনেও জড়াতে পারে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মোবাইল ফোনে যুগান্তরকে এমন আশঙ্কার কথা জানান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম। সম্প্রতি সাক্ষাৎকারেও এমন আশঙ্কার কথা বলেছেন তিনি। ঘাতকরা বয়সে কিশোর কি না-তাও খতিয়ে দেখার দাবি করা হয়েছে।
১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দ্যা এলাকায় পরিকল্পিতভাবে অপ্রতিমকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এরপর তার বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারকে অজ্ঞাত ফোন নাম্বার থেকে কল করে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণফোন কোম্পানির একটি সিম থেকে হুমকি দেওয়ার পর সেটি ব্লক করা হয়। পরে এয়ারটেল (সার্কেল) কোম্পানির আরেকটি নাম্বার থেকে বারবার কল দেওয়া হয়। পরে নাম্বার দুটিতে কল করে বন্ধ পাওয়া যায়। ট্রু কলারে সার্চ দিলে দেখা যায়, এগুলো রাসেল স্টোর ও মোহাম্মদ আলি নামে সেভ করা।
এদিকে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের সব খুঁটিনাটি বিষয় তদন্তের আওতায় এনেছে পুলিশ। এর নেপথ্যের কারণ খতিয়ে দেখছে তারা। এর মধ্যে ড. নাহিদা বেগমের মাদকবিরোধী অবস্থানের বিষয়টি বেশি আলোচিত হচ্ছে।
ড. নাহিদা বেগম বলেন, আমি স্থানীয় কোটবাড়ী সালমানপুরের মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলাম। এতে তারা আমার পরিবারকে টার্গেট করে থাকতে পারে। তাছাড়া ঘাতকরা কিশোর হিসাবে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে এসে আবারও খুনখারাবিতে জড়িয়ে পড়তে পারে। আমি আশঙ্কা করছি ভবিষ্যতে তারা আমাকে এবং আমার স্বামীকে পরবর্তী টার্গেটে পরিণত করতে পারে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে ড. নাহিদা বেগম বলেন, সন্তানকে চার দেওয়ালের বন্দিদশায় নয় বরং পৃথিবীর আলো-বাতাসে একজন আত্মনির্ভরশীল মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেই মুক্তমনের বিকাশই যে কাল হয়ে দাঁড়াবে, তা কখনো ভাবতে পারিনি। অপ্রতিমকে প্রচলিত ধারণার চিকিৎসক কিংবা প্রকৌশলী বানানোর পরিকল্পনাও ছিল না। আমার চাওয়া ছিল ছেলে যেন দেশ-বিদেশ ঘুরে বিশ্বকে নিজের মতো করে উপলব্ধি করতে শেখে এবং নিজের দায়িত্ব নিজে নিতে পারে। তাকে ফটোগ্রাফি, সাইক্লিং ও সাঁতার শেখানো হয়েছিল, দেওয়া হয়েছিল কারাতের প্রশিক্ষণও। এমনকি এক বছর নাচও শিখেছিল সে, যার স্মৃতিচিহ্ন হিসাবে ঘরে এখনো তার ব্যবহৃত হারমোনিয়ামটি রয়েছে।
এই শিক্ষিকা আরও বলেন, আমি চেয়েছিলাম আমার ছেলে প্রত্যেকটা কাজে সেলফ ডিপেন্ডেন্ট হবে। সে মানুষকে খুব দ্রুত আপন করে নিতে পারত। বয়সের ব্যবধান বা সিনিয়র-জুনিয়র বিচার করত না। সন্তান প্রতিপালন পদ্ধতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা আমার ভুল হতে পারে।’ অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানকে স্বাধীনভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি সে কার সঙ্গে চলাফেরা করছে এবং কোথায় যাচ্ছে, এসব বিষয়েও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।
হুমকির বিষয়ে ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমাদেরও শঙ্কা কাজ করে। মাঝেমধ্যে কিছু নাম্বার থেকে কল আসে, কিন্তু পরিচয় দেয় না। সেদিন কল করে গালিগালাজ করেছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা জিডি করব। বিষয়টি ডিবিকে জানাব।
সদর দক্ষিণ থানার ওসি মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, আমরা ভিকটিম পরিবারের প্রতিটি আশঙ্কা তদন্তের আওতায় এনেছি। তদন্তে অনেক অগ্রগতি হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন : মামলাটি প্রথমে তদন্ত করছিলেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার এসআই সাইফুল ইসলাম। শুক্রবার তিনি জানান, মামলাটি এখন থেকে তদন্ত করবেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ।
নতুন তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের আদেশ হয়েছে। নথি পাওয়ার পর কাজ শুরু করা হবে। আশা করি তদন্তের পর দ্রুততম সময়ে আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করতে পারব।






