জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) র্যাগিংয়ের ঘটনায় শাখা ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে ‘মিথ্যা’ সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে আরটিভিকে ৩ দিনের মধ্যে সংবাদ প্রত্যাহার এবং নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। অন্যথায়, বেসরকারি এই টেলিভিশন চ্যানেলটির বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলাসহ অন্যান্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া আইনি নোটিশে।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) ইসলামী ছাত্রশিবির, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক মো. তৌহিদ হাসানের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মুজাহিদুল ইসলাম এই নোটিশ প্রেরণ করেন।
নোটিশটি আরটিভির সিইও সৈয়দ আশিক রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবির বাবলু, হেড অব নিউজ ইলিয়াস হোসেন, পরিচালক এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান অ্যাপোলো সহ মোট নয়জনকে পাঠানো হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিশে অভিযোগ করা হয়, গত ১৪ অক্টোবর (২০২৫) আরটিভি অনলাইন সংস্করণে জাবিতে র্যাগিংয়ের দায়ে ১৬ শিক্ষার্থীর বহিষ্কার সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে আরটিভি কর্তৃপক্ষ “তথ্যগত বিভ্রান্তির কারণে সংবাদটি প্রত্যাহার করা হয়েছে” শিরোনামে একটি সংশোধনী প্রকাশ করে, যেখানে দাবি করা হয় যে, “র্যাগিংয়ের দায়ে বহিষ্কৃত ১৬ শিক্ষার্থীর দুজনের শিবিরের সঙ্গে স্পষ্ট সংশ্লিষ্টতা রয়েছে”।
নোটিশে এই দাবিকে “মিথ্যা, বানোয়াট, সাংবাদিকতার নীতি বহির্ভূত” ও “রাজনৈতিক ঘৃণ্য উদ্দেশ্য চরিতার্থ সম্বলিত” বলে আখ্যায়িত করা হয়। এতে বলা হয়, এই সংবাদের মাধ্যমে ইসলামী ছাত্রশিবিরের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ঘটনার পর গত ১৭ অক্টোবর (২০২৫) ছাত্রশিবিরের জাবি শাখার অফিস ও প্রচার সম্পাদক মো: মাজহারুল ইসলাম এক প্রেস রিলিজে র্যাগিংয়ের ঘটনায় সংগঠনের কোনো কর্মী জড়িত ছিল না বলে জানান। এছাড়া, দৈনিক জনকণ্ঠ, ঢাকা ভয়েস ২৪ ও দৈনিক সংগ্রামের মতো সংবাদমাধ্যমগুলোও “শিবিরের সম্পৃক্ততা নেই” মর্মে সংবাদ প্রকাশ করেছিল বলে নোটিশে দাবি করা হয়।
নোটিশে বলা হয়, আরটিভি কর্তৃপক্ষ ভুক্তভোগী, অভিযুক্ত, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা ছাত্রশিবিরের কারো কোনো বিবৃতি বা মতামত উল্লেখ না করে “উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে” এই সংবাদ প্রকাশ করেছে, যা সাংবাদিকতার নীতির পরিপন্থী।
এবিষয়ে জাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিংয়ের ঘটনায় জড়িতদের সাথে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও আরটিভি ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয় অনুসন্ধানে র্যাগিংয়ে জড়িতদের মধ্যে দুইজনের ছাত্রশিবির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এটি স্পষ্টত একটি মিথ্যাচার ও অপসাংবাদিকতা। প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যগুলো মিথ্যা হওয়ায় এবং অনুসন্ধানের কি কি প্রমাণ রয়েছে তা জানতে আমরা সেদিন থেকেই সংবাদমাধ্যমটির কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করি। আরটিভির অনলাইন ইনচার্জকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল এবং মেসেজ দেয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।”
তিনি বলেন, “মিথ্যা তথ্য দিয়ে করা প্রতিবেদনটিও তারা এখন পর্যন্ত প্রত্যাহার করেননি। কারও দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে আরটিভির মতো একটি সংবাদমাধ্যমে এমন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন ও অপসাংবাদিকতা কাম্য নয়। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই আমরা আইনিভাবেই এই মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।”
বার্তাবাজার/এমএইচ





