আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার দাবিতে বিক্ষোভ ও ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (৮ মে) রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকা থেকে মিছিল শুরু করে প্রধান ফটকের সামনে এসে তারা সড়ক অবরোধ করেন। এতে উভয় পাশে যান চলাচলে স্থবিরতা দেখা দেয়।
প্রতিবাদকারীরা স্লোগানে স্লোগানে মুখর ছিলেন। তারা বলেন, “আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে”, “আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ কর” ইত্যাদি স্লোগান দিয়ে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রায় ৩০ মিনিট সড়কে অবস্থান নেওয়ার পর রাত দেড়টার দিকে অবরোধ তুলে নেন তারা।
গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, “যারা আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে, আমরা তাদের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তুলব। আমরা জুলাইয়ের যোদ্ধা, প্রয়োজনে আবারও জীবন দেব, তবু এই দলকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেব না।”
শিক্ষার্থী সংগঠন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল বলেন, “৫ আগস্টের গণরায়ে জনগণ জানিয়ে দিয়েছে—আওয়ামী লীগ আর রাজনীতি করতে পারবে না। তারা ফিরলেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে, রাজনীতি করার জন্য নয়।”
ছাত্র শিবিরের জাবি শাখার অফিস সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, “যে দল আমাদের ভাইদের গুলি করেছে, আমাদের নারীদের উপর বর্বরতা চালিয়েছে, সেই দল গণতন্ত্রের মুখোশ পরে রাজনীতি করতে পারে না। অবিলম্বে এই দলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে।”
উজ্জ্বল আরও জানান, “বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার যদি জনগণের জুলাই মাসের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তাহলে তারাও জনরোষের মুখে পড়বে। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার মাধ্যমেই সরকারের দায়বদ্ধতা প্রমাণ করতে হবে।”
এই প্রতিবাদ কর্মসূচি বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।





