আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দেশব্যাপী প্রচারণা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। একইসঙ্গে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট নিশ্চিত করতে এজেন্ট নিয়োগ ও এজেন্ট তালিকা প্রকাশের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনটির সভাপতি রিফাত রশীদ।
রিফাত রশীদ বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহির অভাব, ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ এবং দায়িত্বশীলদের বিতর্কিত বক্তব্য রাষ্ট্রকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী করা এখন সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্র একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। দীর্ঘ ঐতিহাসিক লড়াই ও রক্তক্ষয়ের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই রাষ্ট্র বারবার সংকটে পড়েছে কিছু গোষ্ঠীর ক্ষমতালোভ ও স্বার্থান্বেষী রাজনীতির কারণে। সাধারণ মানুষ রক্ত দেয়, আর সেই রক্তকে পুঁজি করে ফায়দা লুটে নির্দিষ্ট একটি শ্রেণি।
রিফাত রশীদ আরও বলেন, ঐক্যমত্য কমিশনের মাধ্যমে যেসব সংস্কার প্রস্তাব সামনে আনা হয়েছিল, তার আউটপুট সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট নয়। গণভোটে যে প্রশ্ন ও ধারাগুলো রাখা হয়েছে, সেগুলো সাধারণ মানুষের বোধগম্য নয় এবং একাধিক বিষয়ের ওপর একসঙ্গে ভোট দেওয়ার পদ্ধতি গণতান্ত্রিক যুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অন্তর্বর্তী সরকার ও ঐক্যমত্য কমিশন সামগ্রিকভাবে ব্যর্থ হলেও গণভোটের মধ্য দিয়েই অন্তত আংশিক সংস্কার বাস্তবায়নের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, গণভোটে হ্যাঁ জয়ী না হলে ভবিষ্যৎ সরকারকে সংস্কারে বাধ্য করার কোনো নৈতিক বা রাজনৈতিক ভিত্তি থাকবে না। তাই আগামীর লড়াইকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হ্যাঁ ভোটে বিজয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে দেশব্যাপী প্রচারণা কর্মসূচির বিস্তারিত সূচি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচি অনুযায়ী—
৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টায় রংপুরের পীরগঞ্জে ‘ইয়েস র্যালি’, বিকেল ৩টায় রংপুর টাউন হলে কর্মসূচি এবং একই দিনে শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ।
৪ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীতে সকাল ১১টায় ‘ইয়েস র্যালি’ ও বিকেল ৩টায় কর্মসূচি।
৫ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় খুলনায় শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে খুলনায় ‘ইয়েস র্যালি’; একই দিনে বিকেল ৫টায় বরিশালে শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে বরিশালে ‘ইয়েস র্যালি’।
৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় ময়মনসিংহে শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও বিকেল ৩টায় ‘ইয়েস র্যালি’।
৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় সিলেটে শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও বিকেল ৩টায় ‘ইয়েস র্যালি’।
৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় চট্টগ্রামে শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও বিকেল ৫টায় ‘ইয়েস র্যালি’।
৯ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৩টায় ঢাকায় শাহবাগ থেকে ‘ইয়েস মার্চ’।
১০ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণভোটে সংগঠনের এজেন্ট তালিকা প্রকাশ করা হবে।
রিফাত রশীদ আরও বলেন, গণভোটে এজেন্ট নিয়োগ ও তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সংগঠিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে এবং জনগণের ভোটাধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখা হবে।





