জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের তিনটি প্রধান দাবিতে লংমার্চে অংশগ্রহণ করছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ মে) যমুনা পরিবহন স্থলে ক্যাম্পাস থেকে ছেড়ে আসা ১৪টি বাসে করে দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী জমায়েত হয়। কাকরাইল মোড় বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের স্লোগানে মুখরিত ছিল।
এদিন দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বাসে করে রাস্তা অবরোধ করেছে এবং জোরালোভাবে দাবি আদায়ের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী সাকিব হোসেন বলেন, “গতকাল রাতভর আমরা এখানে অবস্থান করেছি। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাব এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ফিরে যাব না। ক্যাম্পাস থেকে আরও শিক্ষার্থীরা আসছে, আমরা আমাদের দাবিতে অটল।”
গতকালও শিক্ষার্থীরা সারারাত কাকরাইল মোড়ে অবস্থান পালন করেছিল। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন থেকে যমুনার দিকে রওনা হয়। পদযাত্রা শুরুতেই গুলিস্তান মাজার গেটে বাধার মুখে পড়লেও পরে মৎস্য ভবনের পাশে পুলিশ বাধা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যায়।
কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং মোড়ে পৌঁছালে পুলিশ অতর্কিত টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। গরম পানি ছোড়াও হয়। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী মিলিয়ে অন্তত ৩০ জন আহত হয়।
এর আগে মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা ইউজিসির সঙ্গে বৈঠকে বসে। সেখানে বাজেট বৃদ্ধি এবং আবাসন সংকট নিয়ে আলোচনা হলেও শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ না হওয়ায় ‘জবি ঐক্য’ আন্দোলন ঘোষণা করে।
শিক্ষার্থীদের প্রধান তিন দফা দাবি হলো—
১. আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০% শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন বৃত্তি কার্যকর করা।
২. ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কোনো ধরনের কাটছাঁট ছাড়াই অনুমোদন করা।
৩. দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণ প্রকল্পের কাজ একনেক সভায় অনুমোদন দিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন শুরু করা।
শিক্ষার্থীরা দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে।





