রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত একটি বিক্ষোভ সমাবেশে ‘জুলাই ঐক্য’ উপদেষ্টা পরিষদে ভারতীয় দোসরদের অপসারণ এবং জুলাই ঘোষণাপত্র দ্রুত প্রকাশের দাবি জানায়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ‘জুলাই ঐক্য’ প্ল্যাটফর্মের অন্যতম সংগঠক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ বলেন, “জুলাইয়ের রক্তের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় আসা দলগুলো এখনও কোনো কার্যকর কাজ করেনি। যারা আজকের সরকারের পিছনে দাঁড়িয়েছে, তারা বাস্তবে জুলাইয়ের যোদ্ধাদের বিপদে ঠেলে দিয়েছে। আমরা আশা করি, ড. ইউনূস আপনার আশেপাশের গাদ্দারদের অপসারণ করবেন।”
তিনি আরও বলেন, “যেভাবে আমরা একতাবদ্ধ হয়ে খুনি হাসিনাকে ভারতে পালাতে বাধ্য করেছি, তেমনি যারা জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করবে তাদেরও পালাতে বাধ্য করব।”
উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মাহফুজকে উদ্দেশ্য করে মিনহাজ বলেন, “মাহফুজ, তুমি জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করেছো। দেশের জন্য যারা কাল হয়ে দাঁড়ায়, তাদের আমরা কখনো মেনে নেব না।”
প্ল্যাটফর্মের মুখপাত্র ইসরাফিল ফরাজী দাবি করেন, “আজকের দিনে জুলাই যোদ্ধারা মাঠেই আছে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত জুলাইয়ের গাদ্দারদের বিচার হবে না, ততক্ষণ তারা ফিরে যাবে না। অবিলম্বে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ করতে হবে এবং সসম্মানে আমাদের পাশে থাকতে হবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও জুলাই ঐক্যের অন্যতম সংগঠক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, “আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি বুক ভরা আশা নিয়ে ছিলাম, তবে তাদের প্রধান কাজ হওয়া উচিত ছিল আহতদের পুনর্বাসন এবং অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা। কিন্তু তারা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত।”
তিনি দাবি করেন, “উপদেষ্টা পরিষদ থেকে ভারতীয় দোসরদের অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে। যারা ভারতের আধিপত্যবাদী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে তাদের দ্রুত সরাতে হবে।”
মুসাদ্দিকের পক্ষ থেকে জানানো তিন প্রধান দাবি:
- প্রশাসন ও অন্যান্য সকল জায়গা থেকে ভারতীয় আধিপত্যবাদীদের অপসারণ।
- দ্রুত সময়ের মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশ।
- প্রশাসন ও গণমাধ্যম থেকে আওয়ামী লীগের দোসরদের দ্রুত অপসারণ।
বিক্ষোভ সমাবেশে ‘জুলাই ঐক্য’ প্ল্যাটফর্মের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন এবং আগামী দিনের জন্য এককাট্টা থাকার শপথ নেন।





