ঢাকা   সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

ইজারাদারদের দ্বন্দ্বে অচল জগন্নাথদীঘি, লাভবান প্রভাবশালীরা

Authorরেডিও বার্তা অনলাইন

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০৭:১২ পিএম

ইজারাদারদের দ্বন্দ্বে অচল জগন্নাথদীঘি, লাভবান প্রভাবশালীরা

দক্ষিণ কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথদীঘিকে ঘিরে চিওড়া মৎসচাষী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চরম দ্বন্দ্ব বিরাজ করছে। এ দ্বন্দ্বের সুযোগ নিয়ে কতিপয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সুবিধা নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সমিতির সাধারণ সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও লাভবান হচ্ছেন না মাছ চাষ সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, সমিতির সভাপতি ফখরুল ইসলাম একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমিতিকে ‘পারিবারিক’ প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এ জন্য তিনি গঠনতন্ত্র বহির্ভূতভাবে নিজের স্বজনদের সদস্য অন্তর্ভুক্ত করে বৈধ সদস্যদের বাদ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর ফখরুল ইসলাম ও সফিউল ইসলামসহ ২০ জন সদস্যকে নিয়ে সকলের মতামতের ভিত্তিতে চিওড়া মৎসচাষী সমবায় সমিতি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে উপজেলা সমবায় অফিসে আবেদন করলে সমিতিটি নিবন্ধন লাভ করে। সমিতির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ধোড়করা বাজার শাখায় সভাপতি, সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নামে যৌথ ব্যাংক হিসাব খোলা হয় এবং সব আর্থিক লেনদেন ওই হিসাবের মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরে জগন্নাথদীঘি জলমহাল ইজারা নেওয়ার জন্য সমিতির পক্ষ থেকে সভাপতি ফখরুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ছয় বছরের জন্য জলমহাল ইজারা নেন। ইজারা মূল্য, ভ্যাট ও আয়কর সদস্যদের মৌখিক সম্মতিক্রমে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে চুক্তিপত্র সম্পাদন করা হয়।

তবে অভিযোগ ওঠে, জলমহাল ইজারা পাওয়ার পর ফখরুল ইসলাম নিজের ভাই-বোন ও আত্মীয়স্বজনদের সমিতিতে অন্তর্ভুক্ত করে বৈধ সাধারণ সম্পাদক সফিউল ইসলামসহ কয়েকজন সদস্যকে বাদ দেন। বাদ পড়া সদস্যদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আলোচনার চেষ্টা করা হলেও সভাপতি তা এড়িয়ে যান।

এদিকে গত বছরের অক্টোবর মাসে জগন্নাথদীঘিতে বড়শি দিয়ে মাছ ধরার প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন ফখরুল ইসলাম। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি টিকিট ২৮ হাজার টাকা করে ৯৪টি টিকিট বিক্রি করে প্রায় ২৬ লাখ টাকার বেশি আদায় করা হয়। সমিতির অন্য সদস্যদের অভিযোগ, তাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই একক সিদ্ধান্তে এই আয়োজন করা হয়।

এ ঘটনায় সাধারণ সম্পাদক সফিউল ইসলাম জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এসিল্যান্ড ও থানার ওসির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে দীঘির মাছের মাচা ভাঙচুর ও মহাসড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ফখরুল ইসলাম ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে শালিস বৈঠকে ফখরুল ইসলাম সমিতির বাদ পড়া সদস্যদের পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করে সুষ্ঠুভাবে দীঘি পরিচালনার আশ্বাস দেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তবে পরে তিনি সেই সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করে সাধারণ সম্পাদক সফিউল ইসলাম ও সদস্য তৌহিদুল আলমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগ রয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে গোপনে জাল ফেলে জগন্নাথদীঘি থেকে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার মাছ আহরণ করা হয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে সবাইকে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেয়।

দীর্ঘদিনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৭ মে কুমিল্লা জেলা সমবায় অফিসের তদন্ত টিম সরেজমিনে গিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করে।
জগন্নাথদীঘির পাহারাদার বেলাল হোসেন বলেন, চাঁদা দাবির কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে গত বছর দীঘি পরিচালনা অফিসে ভাঙচুর হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ফখরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি এখনো সমাধান হয়নি। জেলা সমবায় অফিস তদন্ত করছে।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বিষয়টি জেলা অফিস থেকে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত কমিটি উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেছে।

কুমিল্লা জেলা সমবায় পরিদর্শক এবিএম আবুল কালাম বলেন, তদন্ত শেষ পর্যায়ে। খুব শিগগিরই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।

অপর তদন্তকারী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, উভয় পক্ষকে লিখিত বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে।

কুমিল্লা জেলা সমবায় কর্মকর্তা সালমান ইকবাল বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

বার্তা বাজার/এমএমএইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!