প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম বলেছেন, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রাষ্ট্রহীন, বিচ্ছিন্ন ও হতাশ একটি প্রজন্ম বেড়ে উঠছে, যা উগ্রবাদ এবং সশস্ত্র কর্মকাণ্ডের প্রজনন ক্ষেত্র হতে পারে। ইতিহাস বলে যে আমরা যদি অবহেলা করি, তবে এই মানুষগুলো একদিন আমাদের বিরুদ্ধেই অস্ত্র তুলে নেবে এবং সেই দিন আসার আগেই আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে।
আজ সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান ভবনের মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের চ্যালেঞ্জ : আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও জাতীয় অগ্রাধিকার’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের জন্য শুধু মানবিক সমস্যা হিসেবে দেখতে নারাজ প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য রোহিঙ্গা সংকট কেবল একটি মানবিক ইস্যু নয়। এটি একই সঙ্গে একটি হিউম্যান সিকিউরিটি বা মানব নিরাপত্তা উদ্বেগ, একটি জাতীয় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, একটি কূটনৈতিক দ্বিধা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি ক্রমবর্ধমান হুমকি।
সমস্যাটিকে এক শব্দে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা ছিল একটি পরিকল্পনা ছাড়া আমন্ত্রিত বোঝা।ক্যাম্পে বাড়ছে নিরাপত্তা ও মানবিক সংকট
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে ড. শামসুল ইসলাম বলেন, সেখানে বর্তমানে ৬ থেকে ১১টি সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। ক্যাম্পের মধ্য দিয়ে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক অবাধে চলাচল করছে। ২০১৭ সাল থেকে পুলিশ ২ হাজার ৪০০-এর বেশি মামলা করেছে এবং ২৬০ জন মানুষ নিহত হয়েছে।
এ ছাড়া, আশ্রয় ও জ্বালানি কাঠের জন্য ক্যাম্প এলাকায় ৪৪ বর্গকিলোমিটার বন উধাও হয়ে গেছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, প্রতিদিন ক্যাম্পগুলোতে ৯৬টি শিশু জন্ম নিচ্ছে। ফলে কোনো ভবিষ্যৎ ও আশা ছাড়া একটি প্রজন্ম বেড়ে উঠছে।






