বিস্ফোরণে দুই যুবক নিহতের পরিকল্পনাকারী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি শরিফ উদ্দিন দুলালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ৩০ ডিসেম্বর চরবাগডাঙ্গায় এক উঠান বৈঠকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য লতিফুর রহমান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জামায়াতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। সেদিন দুলালের নাম ধরে বলেছিলেন, ‘আমার ছোট ভাই দুলাল আওয়ামী লীগের লোক ছিল। আজকে জামায়াতে যোগ দিয়ে সে জাহান্নাম থেকে বেঁচে গেছে। আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে যোগ দিলে থানা, পুলিশ, আদালত সব দেখব।’
গত শনিবার ভোরে সদর উপজেলার ফাটাপাড়ার বাড়িতে বিস্ফোরণে দুজন নিহত হন। পরদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে জামায়াত নেতা লতিফুর রহমান বলেন, যেন নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা না হয়।
এ ঘটনায় শনিবার রাতে সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক বেলাল হোসেন মামলা করেন। সেই মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে দুলালকে আসামি করা হয়নি। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের এক দিন পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলো।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, মামলায় আসামি না হলেও তদন্তে নাম আসায় দুলালকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গ্রেপ্তার চিকিৎসাধীন শুভর মা ফৌজিয়া বেগমের দাবি, তাঁর ছেলে রাতে পিকনিক খাবে এমন কথা বলে বের হয়। এর আগে কয়েক দফা তাঁর ছেলের কাছে ফোন আসে দ্রুত বের হওয়ার জন্য। পরে তিনি জেনেছেন তারা পিকনিক করার সময় প্রতিপক্ষ বোমা হামলা করায় এই হতাহত।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বিপুল বিস্ফোরকসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সংগ্রহে টাকা দিয়েছিলেন দুবাইয়ে পলাতক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা শাহিদ রানা টিপু। পুলিশ জানায়, চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান টিপু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ





