গতকাল মঙ্গলবার মধ্যরাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘোরার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য (২৫) এবং তাঁর দুই বন্ধু মোটরসাইকেলে করে ক্যাম্পাসের দিকে ফিরছিলেন। পথে তাদের মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে আরেকটি মোটরসাইকেলের সাথে। ওই মোটরসাইকেলে থাকা দুই থেকে তিনজনসহ আরও অন্য দু-তিনটি মোটরসাইকেলের আরোহী মিলিয়ে মোট ১০-১২ জনের সঙ্গে তাদের তর্কবিতর্ক শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর ওই ব্যক্তিরা হামলা চালায়। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলেও শাহরিয়ারকে ছুরিকাঘাত করা হয়।
শাহরিয়ার সঙ্গে থাকা বন্ধু আশরাফুল আলম রাফি আজ বুধবার প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলছেন। রাফি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। নিহত শাহরিয়ারও একই শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে স্নাতকোত্তর পড়তেন। তিনি স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন।
রাফি বলেন, ‘আমরা তিনজন—সাম্য, আমি এবং মো. আব্দুল্লাহ আল বায়েজিদ—সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরছিলাম। পথেই আমাদের মোটরসাইকেলের সঙ্গে অন্য একটি মোটরসাইকেলের হালকা সংঘর্ষ হয়। ওই মোটরসাইকেলে দু-তিন আরোহী এবং আরও কয়েকটি মোটরসাইকেলে মোট ১০-১২ জন ছিল। সংঘর্ষের পর তাদের সঙ্গে আমাদের কথাকাটাকাটি শুরু হয়।’
তিনি আরও জানান, ‘তর্কের পর তারা আমাদের ওপর হঠাৎ করে হামলা চালায়। আমরা আত্মরক্ষায় চেষ্টা চালিয়েছি, কিন্তু তাতেও সাম্যকে ছুরিকাঘাত করা হয়। তাঁর শরীরে প্রচুর রক্ত ঝরছিল এবং ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।’
রাফি জানান, প্রায় ছয়-সাত বছর ধরে তারা একসঙ্গে পড়াশোনা করছিলেন এবং তাদের বন্ধুত্ব শুধু বন্ধুত্ব নয়, বরং ভাইয়ের মতো ছিল।
এই নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে গতকাল রাতে ও আজ দিনব্যাপী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ-প্রদর্শন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ক্যাম্পাসে শাহরিয়ারের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুলিশ ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পাশাপাশি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনা তদন্তের জন্য সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।
হত্যার ঘটনায় ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টরের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে





