ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এস এম শাহরিয়ার আলম সাম্যের হত্যা বিষয়ে পুলিশ আজ বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গতকাল মঙ্গলবার রাত প্রায় ১১:৪৫ মিনিটে শাহরিয়ার তার দুই বন্ধুর সঙ্গে মোটরসাইকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘোরার পর ক্যাম্পাস ফেরার পথে রমনা কালীমন্দিরের উত্তরে, বটগাছ সংলগ্ন পুরোনো ফোয়ারার কাছে অজ্ঞাত পরিচয়ের ১০-১২ জন ‘দুষ্কৃতকারী’ তাদের মোটরসাইকেলের সাথে শাহরিয়ারের মোটরসাইকেল ধাক্কা মারেন। এরপর তাদের মধ্যে বাগ-বিতণ্ডা শুরু হয়।
বিতর্কের এক পর্যায়ে ওই ‘দুষ্কৃতকারীরা’ শাহরিয়ার ও তার সঙ্গীদের ইট দিয়ে আঘাত করেন। এ সময় একজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাহরিয়ারের ডান পায়ের উরুর পেছনে আঘাত করেন, যার ফলে তিনি রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে পড়েন। এরপর তারা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আহত শাহরিয়ারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় শাহরিয়ারের বড় ভাই এস এ এম শরিফুল আলম শাহবাগ থানা পুলিশকে একটি মামলা করেন। পুলিশ দ্রুত কার্যক্রম শুরু করে এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও অন্যান্য প্রযুক্তির সাহায্যে জড়িত তিন আসামি—তামিম হাওলাদার (৩০), সম্রাট মল্লিক (২৮) ও পলাশ সরদার (৩০)—এর অবস্থান শনাক্ত করে। বুধবার সকালে শেরেবাংলা নগর থানা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
শাহরিয়ার আলম সাম্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের স্নাতকোত্তর ছাত্র ছিলেন এবং স্যার এ এফ রহমান হলে আবাসিক ছিলেন। তিনি হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন।
তার হত্যার প্রতিবাদে ছাত্রদল বিক্ষোভ করেছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টরের পদত্যাগেরও দাবি জানানো হয়েছে।





