প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মিছিল, সমাবেশ বা জমায়েতের মাধ্যমে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বর্তমান সরকারকে বিব্রত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর পরিকল্পনা করেছিল বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি দাবি করেন, তাদের এই পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) পুরান ঢাকার হোসাইনী দালান ইমামবাড়ায় আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। পবিত্র আশুরা উদযাপন ও তাজিয়া মিছিল উপলক্ষে ডিএমপির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জানাতে এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় মিছিল, সমাবেশ বা জমায়েতের পরিকল্পনার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য ছিল। সেই অনুযায়ী গত তিন দিন ধরে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে ঢাকার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে চেকপোস্ট জোরদার করা হয়েছে। পিকেট, মোবাইল ও ফুট পেট্রোল বাড়ানো হয়েছে এবং সাদা পোশাকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য জমায়েত ঠেকাতে মেস, হোটেলসহ বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হয় এবং কয়েকজন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারের পর আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে, তারা মিছিল-সমাবেশের মাধ্যমে সরকারকে বিব্রত করা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছিল। ডিএমপির সদস্যরা এই পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে সক্ষম হয়েছে।
আওয়ামী লীগের মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা থেকে প্রতীয়মান হয়, সুযোগ পেলে তারা নাশকতার চেষ্টা করতে পারে। তাই ঢাকার বাইরে থেকে কেউ যেন ঢাকায় এসে কোনো ধরনের মিছিল, সমাবেশ বা নাশকতা করতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
আশুরা ও তাজিয়া মিছিলকে কেন্দ্র করে নাশকতার শঙ্কা আছে কি না—এ প্রশ্নে ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ ধরনের কোনও আলামত এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা প্রতিহত করার প্রস্তুতি রয়েছে।






