২০১৩ সালের মে মাসে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ৩ সেপ্টেম্বর। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আজ রোববার এক আদেশে এই দিন ধার্য করেন।
আজ রোববার কারাগারে থাকা ৯ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন- সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু ও সাবেক চিফ রিপোর্টার ফারজানা রুপা এবং সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল জলিল মন্ডল। আগামী ধার্য তারিখে সাবেক দুই মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ও হাসানুল হক ইনুকে হাজির করার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে গত ২৭ জুলাই শাপলা চত্বরের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। ওই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৫ জন সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য, বিভিন্ন বাহিনীর ২১ জন সাবেক সদস্য, তিনজন রাজনীতিবিদ ও সংগঠক এবং দুজন সাংবাদিককে আসামি করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩ সালের মে মাসে হেফাজতে ইসলামের শাপলা চত্বরের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে হত্যাকাণ্ড ঘটে। এসব ঘটনায় ৫৭ জনকে হত্যার অভিযোগ এনে ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। পরে এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের তালিকায় ৬১ জনের নাম পাওয়া গেছে বলে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে।মামলার অভিযোগে তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা এবং অন্যান্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও ইমরান এইচ সরকারসহ ৩০ জন এখনো পলাতক রয়েছেন।
শাপলা চত্বরের ঘটনাটি ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে এবং পরদিন ভোরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পর ব্যাপক আলোচনায় আসে। হেফাজতে ইসলামের কর্মীরা ওই সময় মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়েছিলেন। সমাবেশ ও পরবর্তী অভিযানকে ঘিরে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে তখন থেকেই বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন দাবি রয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এখন ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছেন। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর ইনু ও আব্দুর রাজ্জাককে হাজির করার পাশাপাশি মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
বার্তা বাজার/এআর






