ঢাকা   শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬, ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে ডনকে, খুলতে পারে রহস্যের জট

Authorনিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৯ এএম

রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে ডনকে, খুলতে পারে রহস্যের জট

তিন দশক ধরে ঝুলে থাকা জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর রহস্যে হঠাৎ করেই যেন একের পর এক নতুন দরজা খুলছে। খলনায়ক আশরাফুল হক ওরফে ডন গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিন না পাওয়া, তাকে রিমান্ডে নেওয়ার প্রস্তুতি এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের ঘটনায় পুরোনো এই রহস্যে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। নতুন তদন্ত কর্মকর্তা ইতোমধ্যে মামলার নথি, জবানবন্দি ও আগের তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করছেন। একই সঙ্গে এজাহারভুক্ত আসামিদের বাইরে সন্দেহভাজনদেরও জিজ্ঞাসাবাদের সম্ভাবনার কথা জানা গেছে। সব মিলিয়ে সালমান শাহর মৃত্যুর মূল রহস্য উদঘাটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন ডনকে রিমান্ডে নেওয়া হলে তদন্তকারীদের সামনে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থাকতে পারে। যেমন- ঘটনার সময় ১৯৯৬ সালের ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর তিনি কোথায় ছিলেন? সালমান শাহর সঙ্গে তার শেষ যোগাযোগ কখন ও কোথায় হয়েছিল? সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, রেজভী আহমেদ, ডেভিড, ফারুকসহ এজহারভুক্ত আসামিদের সঙ্গে তার সম্পর্কের প্রকৃতি কী? রাজসাক্ষী রেজভীর ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে দেওয়া ১২ লাখ টাকা লেনদেনের কোনো বাস্তব ভিত্তি আছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তরই হয়তো মামলার নতুন দিক উন্মোচনে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক মুজিবুর রহমান দায়িত্ব নিয়েই প্রায় ৩০ বছরের পুরোনো নথিপত্র ও আলামত মিলিয়ে দেখছেন। তৎকালীন চিকিৎসা নথি, ময়নাতদন্তের পারিপার্শ্বিকতা এবং ঘটনার দিন ইস্কাটনের বাসায় উপস্থিত ব্যক্তিদের পুরোনো বক্তব্য নতুন করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবে যাওয়ার সময় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে গ্রেপ্তার হন ডন। পরে সিআইডির কর্মকর্তারা তাকে নিজেদের হেফাজতে নেন। আদালতের নির্দেশে ওই দিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

পরবর্তীতে গত ১২ আগস্ট ডনের পক্ষে জামিন আবেদন করা হলেও রাষ্ট্রপক্ষের তীব্র বিরোধিতার মুখে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তা নামঞ্জুর করেন।

ডনের গ্রেপ্তারের পর প্রতিক্রিয়ায় সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী বলেছিলেন, তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই পুরো হত্যাকাণ্ডের বিষাক্ত নকশা বেরিয়ে আসবে। তিনি মূল আসামি সামিরা হক, তার মা লতিফা হক লুসি ও দীর্ঘদিন পলাতক আজিজ মোহাম্মদ ভাইকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানিয়েছিলেন।

বলা হচ্ছে, ডনের গ্রেপ্তারের পর মামলার তদন্তে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো—এতদিন আইনের বাইরে থাকা এজাহারভুক্ত ৪ নম্বর আসামিকে এখন সরাসরি মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ডনকে ঘিরে পুরোনো নথিতে থাকা অভিযোগ, রাজসাক্ষী রেজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের ১৬৪ ধারার জবানবন্দি এবং কথিত ১২ লাখ টাকার চুক্তির বিষয় নতুন করে পরখ করতে চায় সিআইডি।

সূত্র অনুযায়ী, নতুন তদন্তের আওতা কেবল ডন বা এজাহারভুক্ত ১১ আসামির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে এজাহারের বাইরে থাকা যেকোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি, চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা অতীতে সন্দেহভাজন হিসেবে আলোচনায় আসা মানুষদেরও জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি করা হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন তৎপরতায় অনেক পুরোনো মুখ নিজেদের আড়াল করার চেষ্টা করছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে।

এদিকে ডনের জামিন শুনানির দিন গত ১২ আগস্ট আদালত প্রাঙ্গণে মামলাটিকে ঘিরে তৈরি হয় নাটকীয় ও উত্তপ্ত পরিস্থিতি। সালমান শাহর মামা ও মামলার বাদী আলমগীর কুমকুম অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার পরিবারের সদস্য শাহরানকে সরাসরি জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে রমনা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

সম্প্রতি সিআইডি প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন। দায়িত্ব নিয়েই তিনি তিন দশক ধরে ঝুলে থাকা এই ঐতিহাসিক মামলাটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নিরপেক্ষ ও নিখুঁত আইনি প্রক্রিয়ায় তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে । সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা ইতোমধ্যে আটবার পিছিয়েছে। সর্বশেষ গত ২৩ জুলাই আদালত আগামী ৩০ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ধার্য করেছিলেন। তবে এর মাঝেই ডনের গ্রেপ্তার এবং নতুন তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব গ্রহণে পুরো দৃশ্যপট বদলে গেছে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর মৃত্যু হয়। প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা হয়। পরে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী ঘটনাটিকে হত্যা দাবি করে তদন্তের আবেদন করেন। সিআইডির ১৯৯৭ সালের তদন্তে মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা হয়। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে পরিবার দীর্ঘ আইনি লড়াই চালায়। পরবর্তীতে বিচার বিভাগীয় তদন্তেও হত্যার অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বনজ কুমারের নেতৃত্বের পিবিআইয়ের দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২০ সালে হত্যা-সংক্রান্ত অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিবেদন দেয়। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে ৫৪ সাক্ষীর বক্তব্য ও জব্দ আলামত পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু পরিবার ওই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা করার পথ খুলে দেন। পরদিন ২১ অক্টোবর রমনা থানায় ১১ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। আসামিরা হলেন— সামিরা হক, লতিফা হক লুসি, আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আব্দুল ছাত্তার, সাজু ও রেজভী আহমেদ।

সার্বিক বিষয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তদন্তাধীন হওয়ায় এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন