১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা আবুল কালাম আযাদের আপিল-সংক্রান্ত শুনানি সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটির পর চার সপ্তাহের জন্য মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
এসময় বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য না করতে চিফ প্রসিকিউটররে সতর্ক করেছেন আপিল বিভাগ।
পরে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত অবকাশকালীন ছুটিতে যাবে আপিল বিভাগ। এরপর কোর্ট খুললে তারও ৪ সপ্তাহ পর এটির শুনানির দিন দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি রয়েছেন সিনিয়র আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। আপিলে আবুল কালাম আযাদ বিলম্ব মার্জনা এবং আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাজা স্থগিত চেয়েছেন।
পলাতক থাকা অবস্থায় ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪১ বছর পর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি ছিল প্রথম রায়। বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ইসলামবিষয়ক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আবুল কালাম আযাদ পরিচিতি পান। মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন।
তখন জানা যায়, আত্মসমর্পণ করে আপিল করার শর্তে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদের সাজা স্থগিত করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর ধারাবাহিকতায় তিনি ২১ জানুয়ারি আত্মসমর্পণ করেন। এরপর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আপিলের জন্য নথিপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেন।
আদালতে আবুল কালাম আযাদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মশিউল আলম। তিনি ২১ জানুয়ারি জানিয়েছিলেন, ২০১৩ সালে এখান থেকে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতি তার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করেছেন। সারেন্ডার করে আপিল করার শর্তে ২২ অক্টোবর এটি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপর তিনি আত্মসমর্পণ করে আপিলের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেয়ার আবেদন করেন। এরপর আবুল কালাম আযাদ আপিল করেন।






