নিম্নমধ্যম আয়ের ৫১টি দেশের তালিকায় স্বাস্থ্য বাজেটে বাংলাদেশ প্রায় তলানিতে—৪৮তম অবস্থানে রয়েছে। উন্নয়ন সমন্বয়ের আয়োজিত ‘শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে জাতীয় বাজেট’ শীর্ষক সংলাপে এমন উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে।
রাজধানীর বাংলামোটরে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ কনফারেন্স কক্ষে আজ (বুধবার) বিকেলে অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় জানানো হয়, বাংলাদেশে জাতীয় বাজেটের মাত্র ৩.৩২ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়, যেখানে ভুটান দেয় ৮.০৫ শতাংশ।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উন্নয়ন সমন্বয়ের গবেষণা পরিচালক আবদুল্লাহ নাদভী। সঞ্চালনায় ছিলেন মাহবুব হাসান। বক্তাদের মতে, স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশ হয়ে ওঠা অনেক দেশের বাজেট কাঠামোয় স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ছিল যথাক্রমে ৯ ও ১৬ শতাংশ বরাদ্দ। কিন্তু বাংলাদেশের অবস্থান এই মানদণ্ড থেকে অনেক নিচে, যা ২০২৬ সালে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় প্রবেশের প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট নয়।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দের দিক থেকেও বাংলাদেশ পিছিয়ে—২৬টি দেশের মধ্যে ২২তম অবস্থানে। বর্তমানে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জাতীয় বাজেটের ১১.৯৪ শতাংশ, আর প্রযুক্তি সহায়ক খাতসহ এই হার দাঁড়ায় ১৩.৯ শতাংশ।
অনুষ্ঠানে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হালিদা হানুম আখতার বলেন, "শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের সুফল পেতে সময় লাগে। অথচ দেশে শিক্ষা খাতে কোনো সংস্কার কমিশন নেই, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।" তিনি প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিতের ওপর জোর দেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক কাজী ফারুক হোসেন বলেন, "শিক্ষা এখন বাজারভিত্তিক পণ্যে পরিণত হয়েছে। একজন প্রাইমারি স্কুল শিক্ষক পান মাত্র ১২ হাজার টাকা বেতন, ফলে পেশায় উৎসাহ হারাচ্ছেন অনেকেই।"
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরুল হাসান যোগ করেন, “শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ছাড়া তরুণদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। অথচ বাজেটে সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত এই দুটি ক্ষেত্র। মেধাবীদের ধরে রাখতে না পারায় আমরা জাতীয় সম্পদের অপচয়ের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছি।”
সংলাপের আলোচকরা স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি বরাদ্দের কার্যকর বাস্তবায়নের দাবি জানান, যাতে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের ভিত্তি আরও মজবুত হয়।





