ঢাকা   মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

সরকার পাঁচ বছরে ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ পেতে চায়

Authorডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬, ১০:৪৯ এএম

সরকার পাঁচ বছরে ১০ বিলিয়ন ডলার ঋণ পেতে চায়

দেশের অর্থনীতির পুনর্গঠন ও দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে আগামী পাঁচ বছরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) থেকে অন্তত ১০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নিতে চায় সরকার। জুনের মধ্যে আগামী অর্থবছরের বাজেট সহায়তা হিসেবে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অন্তত তিন বিলিয়ন ডলার ঋণ পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ সফররত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা আগামী পাঁচ বছরে মোট পাঁচ বিলিয়ন ডলারের (৫০০ কোটি ডলার) ঋণ প্যাকেজের ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের সভায় এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে বর্তমান ঋণ কর্মসূচির পরিবর্তে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন একটি তিন বছর মেয়াদি সংস্কারভিত্তিক ঋণ কর্মসূচিতে যাচ্ছে সরকার। গতকাল আইএমএফের ডিএমডি নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে ভার্চুয়াল সভায় তিন বছর মেয়াদি নতুন সংস্কার কর্মসূচির মাধ্যমে আইএমএফ থেকে পাঁচ থেকে ছয় বিলিয়ন ডলার পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

নতুন ঋণ কর্মসূচিতে সম্মত আইএমএফ
গত বৃহস্পতিবার অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং আইএমএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের মধ্যে এক ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, চলমান আইএমএফ কর্মসূচির অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়।

সভায় অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কাঠামোগত সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে চলমান আইএমএফ ঋণ কর্মসূচি ভিন্ন অর্থনৈতিক ও নীতিগত প্রেক্ষাপটে নেওয়া হয়েছিল। পরে উদ্ভূত দেশীয় বাস্তবতা, রাজনৈতিক অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে কিছু সংস্কার বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকার সংস্কার থেকে সরে আসতে চায় না, বরং বাস্তবসম্মতভাবে ধাপে ধাপে এবং দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে আগ্রহী। এ পরিপ্রেক্ষিতে নবনির্বাচিত সরকারের অধীনে তিন বছরের একটি নতুন আইএমএফ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যেখানে অগ্রাধিকারভিত্তিক ও বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কার অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সভায় নাইজেল ক্লার্ক বাংলাদেশের সংস্কার উদ্যোগ এবং নতুন কর্মসূচি গ্রহণের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে আইএমএফের গঠনমূলক ও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন। উভয় পক্ষ দ্রুত নতুন কর্মসূচি প্রণয়নের কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে একমত হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নতুন কর্মসূচি চূড়ান্ত করতে আগামী জুলাই বা আগস্টে আইএমএফের একটি মিশন ঢাকা সফর করতে পারে। তখন ঋণের পরিমাণ, সময়সীমা ও শর্ত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

প্রসঙ্গত, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকটের মধ্যে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলাদেশ আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। পরে ২০২৫ সালে এর পরিমাণ বাড়িয়ে ৫৫০ কোটি ডলার করা হয়। এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে। বাকি রয়েছে আরও ১৮৬ কোটি ডলার। তবে রাজস্ব আদায়, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক খাত সংস্কারে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হওয়ায় আইএমএফ দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিল।

বিভিন্ন সময়ে সরকার ও আইএমএফের মধ্যে মতপার্থক্যের প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে ছিল অভিন্ন ভ্যাট হার চালু, কর অব্যাহতি কমানো, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার, বিদ্যুৎ ও সারের ভর্তুকি কমানো, ব্যাংক খাত সংস্কার এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পুনর্গঠন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, আইএমএফের ঋণ ও সংস্কার কর্মসূচি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে কাজ করে। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাংক, এডিবি, এআইআইবি ও জাইকার মতো সংস্থাগুলোর কাছ থেকে বাজেট সহায়তা পাওয়াও সহজ হয়। সরকার আশা করছে, নতুন কর্মসূচির অগ্রগতি ইতিবাচক হলে বহুপক্ষীয় ঋণদাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে অতিরিক্ত বাজেট সহায়তা পাওয়া সহজ হবে। আগামী জুন মাসের মধ্যে বিভিন্ন দাতা সংস্থা থেকে অন্তত ৩০০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা আশা করছে সরকার।

এডিবির ৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ
গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এডিবি জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে সমন্বিত প্রবৃদ্ধিভিত্তিক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেওয়া হবে। এই বিশেষ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দেশের সুষম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। এই প্যাকেজের আওতায় প্রতিবছর গড়ে এক বিলিয়ন ডলার করে অর্থায়ন করা হবে, যা এডিবির নিয়মিত বার্ষিক ঋণ কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দা বলেছেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন ধাপে প্রবেশ করছে এবং এডিবি এ দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় পাশে থাকবে। তিনি ইতোমধ্যে ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন বা ১৪০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে জ্বালানি তেল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সার এবং শিপিং খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের ওপর যে বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় সম্প্রতি এডিবি এ খাতে আরও ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারগুলোকে আরও জোরালোভাবে সমর্থন দিতে এডিবি তাদের বার্ষিক সার্বভৌম ঋণের পরিমাণ ২০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। এর ফলে বার্ষিক ঋণের পরিমাণ দুই বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে। এই অর্থ বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যকরণ, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়া সহজ করতে সহায়ক হবে।

 

বার্তা বাজার/এস এইচ

 

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!