ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

খালেদা জিয়া বললেন, ‘ওরা এই বাড়িতেই খাবে, আমরা যা খাই, তা-ই খাবে’

Authorরেডিও বার্তা অনলাইন

প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম

খালেদা জিয়া বললেন, ‘ওরা এই বাড়িতেই খাবে, আমরা যা খাই, তা-ই খাবে’

খালেদা জিয়া বললেন, ‘ওরা এই বাড়িতেই খাবে, আমরা যা খাই, তা-ই খাবে’

খালেদা জিয়া বললেন, ‘ওরা এই বাড়িতেই খাবে, আমরা যা খাই, তা-ই খাবে’

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : সময়টা ১৯৯৩–৯৪ সাল, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সেনানিবাসের শহীদ মঈনুল রোডের সরকারি বাসভবনে সংগীত পরিবেশনের আমন্ত্রণ পায় জনপ্রিয় ব্যান্ড মাইলস। সদ্যপ্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে সেই সময়ের একটি মানবিক ও হৃদয়ছোঁয়া ঘটনার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন ব্যান্ডটির অন্যতম সদস্য হামিন আহমেদ।

হামিন আহমেদ লেখেন, সেদিনই প্রথমবারের মতো সামনাসামনি বেগম খালেদা জিয়াকে দেখার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। তাঁর ব্যক্তিত্ব, অভিজাত রুচি ও মার্জিত আচরণ তাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছিল। আন্তরিকতায় তিনি ছিলেন অসাধারণ—এই অনুভূতি আজও স্পষ্টভাবে মনে আছে বলে উল্লেখ করেন হামিন।

ঘটনার বর্ণনায় তিনি জানান, মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগে দুপুরে মাইলসের সদস্যরা সাউন্ডচেক করছিলেন। এর মধ্যেই দুপুরের খাবারের সময় হয়ে যায়। জিয়া পরিবারের কয়েকজন বন্ধু ও আত্মীয় ব্যান্ড সদস্যদের কাছাকাছি কোনো জায়গায় খাবারের ব্যবস্থা করতে চেয়েছিলেন। ঠিক তখনই সবাইকে চমকে দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘ওরা এই বাড়িতেই খাবে। আমরা যা খাই, তা-ই খাবে।’

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর এমন নির্দেশে খাবারের টেবিলে বসেন মাইলসের সদস্যরা। বেগম খালেদা জিয়ার আন্তরিক আতিথেয়তায় তারা বিস্মিত হন। আপসহীন এই নেত্রী নিজ হাতে তাঁদের প্লেটে খাবার তুলে দেন। সেই মুহূর্তের উষ্ণতা ও সম্মানবোধ আজও তাদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে আছে।

সন্ধ্যায় মাইলসের গান উপভোগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। শুধু তাই নয়, গান শেষে ব্যান্ডটির প্রশংসাও করেন তিনি। সংগীতশিল্পীদের প্রতি তার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সেই দিনটির স্মৃতিকে আরও বিশেষ করে তোলে। পুরোনো দিনের এই সুন্দর অভিজ্ঞতা আজও মাইলস সদস্যদের মনে স্থায়ী আসন গেড়ে আছে বলে উল্লেখ করেন হামিন আহমেদ।

একই পোস্টে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাদের পারিবারিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেছেন হামিন। তিনি জানান, তার মা, দেশবরেণ্য নজরুলসংগীতশিল্পী ফিরোজা বেগমের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। অসুস্থতা ও শারীরিক কষ্ট উপেক্ষা করেই তিনি ছুটে গিয়েছিলেন ফিরোজা বেগমের ঢাকার ইন্দিরা রোডের কালিন্দী অ্যাপার্টমেন্টের বাসায়।

সেখানে ফিরোজা বেগমের সঙ্গে কাটানো স্মৃতির কথা স্মরণ করেন তিনি। এমনভাবে হামিন ও তাঁর পরিবারকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন, যেন তারা তার নিজের পরিবারেরই অংশ। সেই মানবিক আচরণ আজীবন মনে রাখার মতো বলে উল্লেখ করেন হামিন আহমেদ।

হামিনের ভাষ্য অনুযায়ী, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন গভীরভাবে মানবিক, মার্জিত ও সংবেদনশীল হৃদয়ের মানুষ। রাজনীতির বাইরেও তার এই মানবিক রূপই তাকে অনেকের কাছে আলাদা করে স্মরণীয় করে রেখেছে। সর্বোচ্চ সম্মান ও ভালোবাসা নিয়েই তিনি মানুষের স্মৃতিতে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন