ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তীব্র বিমান হামলা ও স্থল অভিযান থেকে মুক্তি মেলেনি গাজা সিটির সাধারণ মানুষদের। গত ছয় মাসে প্রায় ৬৫ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পাশাপাশি লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত ও মানবিক বিপর্যয়ের শিকার হয়েছেন।
বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়া প্রতিনিধি ড. সাজিদা হোসেন বলেন, “গাজায় যে ধ্বংসযজ্ঞ চলছে তা মানবতাবিরোধী অপরাধের মাত্রা পৌঁছেছে। বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন। চিকিৎসা কেন্দ্র, স্কুল, আশ্রয়কেন্দ্র এমনকি পানীয় জলের উৎসেও হামলা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োজন।”
ব্রিটিশ পিস ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক জনাথন মিলার বলেন, “যুদ্ধের শিকার হচ্ছেন নিরীহ মানুষ। গাজা সিটিতে স্থল অভিযান ও বোমাবর্ষণ তীব্র হচ্ছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তৎপর হতে না পারলে আরও ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।”
গাজা সিটির আল-নাসের এলাকায় বসবাস করা ফাতিমা বেগম (৪২) বলেন, “আমাদের বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে কোথায় যাই? খাবার ও পানি নেই। আমরা যেন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছি। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে দ্রুত মুক্তি চাই।”
আরেক বেসামরিক নাগরিক আব্দুল্লাহ (২৮) জানান, “প্রতিদিন বোমার শব্দে ঘুম ভাঙে। স্কুলে যেতে পারি না, হাসপাতালগুলোও বোমাবর্ষণে বন্ধ। আমরা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বিশ্বের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাই।”
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক প্রধান মারিয়া ভালভেদরো বলেন, “গাজায় বেসামরিক মানুষের উপর হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি। মানবিক সাহায্যের প্রবাহ অবাধে পৌঁছাতে দিতে হবে।”
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রও বেসামরিক প্রাণহানির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি আহ্বান জানিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা শুরু করেছে।
তবে, বর্তমানে পরিস্থিতি এমন যে, গাজা সিটির হাজার হাজার বাসিন্দা খাবার, পানি ও চিকিৎসা সেবার জন্য আকুতি করছেন, আর সংঘর্ষ থামার কোনো সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে না।





