ঢাকা   সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

ভারতে মুসলমান ফেরিওয়ালাকে ‘গণপিটুনি’ দিয়ে হত্যা, অভিযুক্তরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৫৩ পিএম

ভারতে মুসলমান ফেরিওয়ালাকে ‘গণপিটুনি’ দিয়ে হত্যা, অভিযুক্তরা হিন্দু ধর্মাবলম্বী

বিহারের নাওয়াদা জেলায় এক মুসলমান ফেরিওয়ালাকে গণপিটুনির ঘটনায় নৃশংসভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। নিহত ব্যক্তি ৪০ বছর বয়সী মুহাম্মদ আতাহার হুসেইন। গত ৫ ডিসেম্বর রাতে নাওয়াদা জেলার রোহ থানার ভট্টা গ্রামে তাকে মারধর করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও ১২ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

নিহতের স্ত্রী শবনম পারভিন বলেন, ঘটনার রাতে কয়েকজন ব্যক্তি তার স্বামীর নাম জানতে চায়। তিনি নাম বলার সঙ্গে সঙ্গেই আট থেকে দশজন মিলে তাকে মারতে শুরু করে। এতে তার স্বামী প্রাণ হারান এবং পরিবারটি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর শঙ্কার কথাও জানান তিনি।

পরিবারের পক্ষ থেকে করা এফআইআরে বলা হয়েছে, চুরির মিথ্যা অভিযোগ তুলে আতাহার হুসেইনকে ধর্মীয় পরিচয় নিশ্চিত করার পর বেধড়ক মারধর করা হয়। তার হাত-পা বেঁধে একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা তাকে মৃত ভেবে পরে পুলিশকে খবর দিয়ে চুরির গল্প সাজায়।

অন্যদিকে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকেও পাল্টা একটি মামলা করা হয়েছে। তাদের দাবি, আতাহার হুসেইন চুরির উদ্দেশ্যে গভীর রাতে একটি বাড়িতে ঢুকেছিলেন এবং হাতেনাতে ধরা পড়ার পর তাকে মারধর করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতরা সবাই ভট্টা গ্রামের বাসিন্দা।

নিহতের ভাই মুহাম্মদ চাঁদ জানান, ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। গ্রামের মুসলমান পুরুষরা নিরাপত্তাহীনতার কারণে কাজের প্রয়োজনে বাইরে যেতে ভয় পাচ্ছেন। তিনি বলেন, মৃত্যুর আগে তার ভাই জানিয়েছিলেন, কাপড় ফেরি করে বাড়ি ফেরার পথে সাইকেলের চাকা পাংচার হলে সাহায্য চাইতে গিয়ে এ ঘটনার শিকার হন।

নিহতের স্ত্রী শবনম বলেন, ঘটনার পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি দেখেই তারা বিষয়টি জানতে পারেন। হাসপাতালে গিয়ে তিনি দেখেন, তার স্বামী অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। চিকিৎসা নিয়ে অব্যবস্থাপনার অভিযোগও করেন তিনি। পরিবারের দাবি, যথাসময়ে উন্নত চিকিৎসা পেলে হয়তো প্রাণ বাঁচানো সম্ভব ছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় দায়ের করা দুই মামলাই তদন্তাধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আতাহার হুসেইন দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় কাপড় ফেরি করতেন এবং হিন্দু-মুসলমান সবাই তাকে চিনতেন। এই ঘটনায় এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

বার্তা বাজার/এস এইচ

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন