ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক টানাপড়েন এবং বাংলাদেশে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই ওপার বাংলায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার তাহেরপুরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি নির্বাচনী জনসভায় ‘উই ওয়ান্ট ইস্টবেঙ্গল’ বা ‘আমরা পূর্ববঙ্গ চাই’ লেখা সংবলিত পোস্টার দেখা গেছে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সভায় এ ধরনের পোস্টার দু’দেশের সম্পর্কে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কারিগরি কারণে প্রধানমন্ত্রী মোদী সশরীরে তাহেরপুরের সভায় উপস্থিত হতে না পারলেও কলকাতা বিমানবন্দর থেকে ফোনের মাধ্যমে বক্তৃতা দেন। সেই সময় সভাস্থলে উপস্থিত সমর্থকদের ভিড়ে হঠাৎই নজর কাড়ে বেশ কিছু পোস্টার, যেখানে সরাসরি বাংলাদেশের ভূখণ্ডকে ইঙ্গিত করে ‘পূর্ববঙ্গ’ দাবির কথা লেখা ছিল। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, উপস্থিত বিজেপি নেতাদের কেউ সেই বিতর্কিত পোস্টার সরানোর উদ্যোগ নেননি, বরং দলের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই ছবিগুলো প্রচার করা হয়েছে।
বাংলাদেশে ভারতীয় দূতাবাসে সাম্প্রতিক হামলা এবং ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাকসহ বিভিন্ন ইস্যুতে যখন দুই দেশের সম্পর্ক এক কঠিন সময় পার করছে, তখন এই ‘অখণ্ড ভারত’ বা ‘পূর্ববঙ্গ’ পুনরুদ্ধারের মতো স্লোগান বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ভারতবিরোধী মনোভাব আরও উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যখন পরিবেশ উত্তপ্ত, তখন এপার বাংলায় এমন উস্কানিমূলক পোস্টারকে ভালো চোখে দেখছেন না কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
এই ঘটনা নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও তোলপাড় শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে: বিজেপি পরিকল্পিতভাবে সীমান্তের ওপার ও এপারের মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিভেদ তৈরির চেষ্টা করছে। উদ্বাস্তু ও সীমান্ত এলাকার আবেগ নিয়ে খেলে রাজনৈতিক ফায়দা লুটার চেষ্টা চলছে। আন্তর্জাতিক স্পর্শকাতর বিষয় হওয়া সত্ত্বেও মোদীর সভায় এমন পোস্টার বিজেপির উস্কানিমূলক মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা ও নয়াদিল্লির যখন উচিত আলোচনার মাধ্যমে দূরত্ব কমিয়ে আনা, তখন রাজনৈতিক জনসভায় এমন উস্কানি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননাকর হিসেবে গণ্য হতে পারে। এটি কেবল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই নয়, বরং কূটনৈতিক টেবিলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বার্তাবাজার/এমএইচ





