ভারতের আসামে জাদুবিদ্যা চর্চা ও ডাইনি সন্দেহে এক দম্পতিকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে আসমের কর্বী আংলং জেলার হাওড়াঘাট এলাকার ১ নম্বর বেলোগুড়ি মুণ্ডা গ্রামে।খবর এনডিটিভি
স্থানীয় পুলিশ জানায়, গার্দি বিরোয়া (৪৩) এবং মীরা বিরোয়া (৩৩) নামে ওই দম্পতিকে জাদুবিদ্যা চর্চার অভিযোগে প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করা হয়, পরে তাদের ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়। আগুনে পুড়ে দম্পতির মৃত্যু ঘটে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ওই দম্পতি আশপাশের গ্রামে খারাপ প্রভাব সৃষ্টি করছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে জাদুবিদ্যা চর্চার অভিযোগ ছিল। এই সন্দেহের কারণে গ্রামবাসীরা একযোগে তাদের ওপর হামলা চালায়। পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছেন এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই এলাকার মানুষ এখনও কুসংস্কারে বিশ্বাসী এবং গুজবের শিকার হয়ে অনেক লোকের জীবন বিপদে ফেলে।
উল্লেখযোগ্য, ২০১৫ সালে আসামে ‘ডাইনি শিকার’ প্রতিরোধে একটি কঠোর আইন প্রণীত হয়। ‘আসাম উইচ হান্টিং (প্রহিবিশন, প্রিভেনশন অ্যান্ড প্রোটেকশন) অ্যাক্ট’ অনুসারে, কোনো ব্যক্তিকে ‘ডাইনি’ আখ্যা দিয়ে হত্যা করা এবং তাদের বিরুদ্ধে অপবাদ লাগানোর শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে, এ ধরনের ঘটনা এতদিনেও কমেনি। গত দশ বছরে ‘ডাইনি শিকার’-এর কারণে আসামে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এই নতুন হত্যাকাণ্ড আসামে ‘ডাইনি সন্দেহে’ নির্যাতনের ভয়াবহতা আবারও সামনে এনেছে, এবং রাজ্যে কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বার্তা বাজার/এস এইচ





