মার্কিন বাহিনী একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করার মধ্যেই আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর একটি টহল ও নজরদারি ড্রোন সফলভাবে তার মিশন সম্পন্ন করেছে। বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) দেশটির সরকারি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে একাধিক ইরানি গণমাধ্যম।
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, এ ধরনের নজরদারি ড্রোনের প্রধান কাজ হলো ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সামরিক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমকে সূত্র জানায়, ব্যবহৃত ড্রোনটি ছিল ‘শাহেদ-১২৯’ মডেলের।
সূত্রটি জানায়, শাহেদ-১২৯ ড্রোনটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিয়মিত ও বৈধ নজরদারি, পর্যবেক্ষণ ও চিত্র ধারণের মিশনে নিয়োজিত ছিল, যা একটি স্বাভাবিক ও আইনসম্মত কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত। মিশন চলাকালে ড্রোনটি সফলভাবে তার নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্য কমান্ড সেন্টারে পাঠাতে সক্ষম হয়।
তবে পরবর্তীতে ড্রোনটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই বিচ্ছিন্নতার কারণ বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং বিষয়টি চূড়ান্ত হলে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, তারা তাদের সেনাদের সুরক্ষার স্বার্থে একটি ইরানি ড্রোনকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, উত্তেজনা বাড়ানোর কোনো উদ্দেশ্য তাদের ছিল না এবং এটি ছিল সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ।
পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির পর এ ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক আগ্রাসনের হুমকিও দিয়ে আসছেন। ইরানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তারা এসব উত্তেজনামূলক পদক্ষেপ ও বক্তব্যের জবাবে ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের যেকোনো নতুন ভুল হিসাবের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
গত শনিবার ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ি সতর্ক করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ শুরু করে, তবে তা একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে। হুমকি কিংবা সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে ইরানি জাতিকে ভয় দেখানো সম্ভব নয়।’
বার্তা বাজার/এমএমএইচ





