ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যা আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আইনের দৃষ্টিতে বৈধ বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। তেলআবিবের ভাষ্য, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে খামেনি একটি বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু ছিলেন।
বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলার মধ্য দিয়ে গত শনিবার মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হয়। এর পরপরই চালানো অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত হন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলের দাবি, নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে এই হামলা চালানো জরুরি ছিল। কারণ ইরান একটি নতুন ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছিল, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র নাদাভ শোশানি বলেন, ‘খামেনিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হামলাটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আইন মেনেই চালানো হয়েছে। যুদ্ধ চলাকালে সশস্ত্র বাহিনী পরিচালনাকারী সামরিক কমান্ডাররা বৈধ লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন।’
শোশানি বলেন, ‘ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব পালন করতেন এবং সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ছিলেন। চলমান সংঘাতে খামেনি সরাসরি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং সরকারের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন, অস্ত্র সরবরাহ ও সমন্বয় তদারকি করতেন।’
ইসরায়েলি এই মুখপাত্রের মতে, সর্বাধিনায়ককে নিষ্ক্রিয় করার ফলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দুর্বল হয়েছে, যা ইসরায়েলের জন্য একটি স্পষ্ট সামরিক সুবিধা তৈরি করেছে। এদিকে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওই হামলায় খামেনির স্ত্রী, জামাতা এবং দুই নাতি-নাতনি নিহত হন।
খামেনির মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক স্থাপনাও রয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বোমা হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র।
বার্তা বাজার/এস এইচ





