ঢাকা   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রেডিও বার্তা
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

মার্কিন স্থলসেনাদের ‘আগুনে পুড়িয়ে’ মারার হুমকি ইরানের

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৯ এএম

মার্কিন স্থলসেনাদের ‘আগুনে পুড়িয়ে’ মারার হুমকি ইরানের

ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, মার্কিন সেনারা ইরানে পা রাখলে তাদের ‘আগুনে পুড়িয়ে’ মারা হবে। মধ্যপ্রাচ্যে মাসব্যাপী চলা যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানে যখন চার দেশের কূটনীতিকেরা বৈঠকে বসেছেন, ঠিক তখনই তিনি এমন হুঁশিয়ারি দিলেন। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, গালিবাফ বলেছেন, ‘আমাদের বাহিনী মার্কিন সেনাদের আগমনের অপেক্ষায় রয়েছে, যাতে তাদের ওপর আগুন ঢেলে দেওয়া যায় এবং তাদের আঞ্চলিক সহযোগীদের চিরতরে শিক্ষা দেওয়া যায়।’

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ২ হাজার ৫০০ মার্কিন মেরিন সেনা পৌঁছানোর পর এই উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তবে চলমান কূটনৈতিক আলোচনাকে স্রেফ ‘লোকদেখানো’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এই ইরানি নেতা।

ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের আধাসামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ড সতর্ক করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শাখা এখন থেকে তাদের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য হবে। কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা জর্জটাউন, নিউ ইয়র্ক ও নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসগুলো এই হুমকির মুখে রয়েছে। রেভল্যুশনারি গার্ডের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার দুপুরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার নিন্দা না জানায়, তবে এই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে বসেছেন। সেখানে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের কোনও প্রতিনিধি নেই। মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেল আতি জানান, তাদের মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ‘সরাসরি সংলাপ’ শুরু করা। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ১৫ দফার একটি শান্তি প্রস্তাব দিলেও ইরান তা প্রত্যাখ্যান করে নিজস্ব ৫ দফা প্রস্তাব পেশ করেছে। ওই প্রস্তাবে ইরানের কর্মকর্তাদের হত্যা বন্ধ এবং হরমজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার শর্ত দেওয়া হয়েছে।

এক মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ইরানেই প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৯০০ জন। এ ছাড়া লেবাননে ১ হাজার ১০০ জন এবং ইসরায়েলে ১৯ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেল, গ্যাস ও সারের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ইরাক সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে আসা ৭১ বছর বয়সী ইরানি নাগরিক রাজ্জাক সাগির আল-মুসাউই নিজের আতঙ্ক প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা জানি না কখন আমাদের ঘরবাড়িতে হামলা হবে। আমি সত্যিই খুব ভীত।’

সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেন, যেকোনও শান্তি চুক্তিতে ইরানের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে আর হামলা না করার সুনির্দিষ্ট গ্যারান্টি থাকতে হবে। অন্যদিকে হুথি বিদ্রোহীদের অংশগ্রহণে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলোও এখন হুমকির মুখে।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
আরও সংবাদ লোড হচ্ছে...
✕
Radio Barta App Screen 1
Radio Barta App Screen 2
রেডিও বার্তার সব নিউজ পেতে ডাউনলোড করুন মোবাইল অ্যাপ
ক্লিক করুন