সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে পুণে থেকে আসা এক হৃদয়স্পর্শী ঘটনার ভিডিও ও ছবি, যা দেখিয়ে দিয়েছে ভারতের মধ্যে এখনও রয়েছে মানবিক সংহতির শক্তিশালী বন্ধন। মহারাষ্ট্রের পুণের ওয়ানাওয়ারি এলাকার এক বিবাহ অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা অনেককে অনুপ্রাণিত করেছে এবং সমাজে নতুন এক উদাহরণ স্থাপন করেছে।
ঘটনাটি ঘটে পুণের স্টেট রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (এসআরপিএফ) মাঠসংলগ্ন অলংকরণ লনের সামনে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টায় সংস্ক্রুতি কাওয়াড়ে ও নরেন্দ্র গালান্ডের বিবাহ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। সাজসজ্জা, পুরোহিতের উপস্থিতি এবং অতিথিদের ভিড় — সবকিছুই সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল।
কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে খোলা লনের মাটি জলমগ্ন হয়ে ওঠে। অতিথিরা আশ্রয়ের খোঁজে ছুটে বেড়ায়, আর বহুদিন ধরে প্রস্তুত হওয়া সেই আনন্দের মুহূর্ত যেন বাতাসে মিলিয়ে যেতে থাকে।
ঠিক তখন পাশের ব্যাংকোয়েট হলে চলছিলো মুসলিম তরুণী মাহিন ও মহসিনের ওয়ালিমা, অর্থাৎ বিয়ের পরবর্তী এক সাংস্কৃতিক আয়োজন। হিন্দু পরিবারের প্রবীণরা তখন ফারুক কাজীর কাছে সাহায্যের জন্য এগিয়ে যান। কাজী সাহেব দেরি না করে তাদের জন্য হলের একাংশ খালি করে দেন, আর নিজের অনুষ্ঠানের মাঝেও তাদের পাশে দাঁড়ান।
তাদের পরিবারের সদস্য ও অতিথিরাও অকাতরে হিন্দু যুগলের অনুষ্ঠানকে সফল করার জন্য সহযোগিতা করেন। ফলে, একই মঞ্চে একের পর এক সম্পন্ন হয় প্রথম হিন্দু বিবাহ এবং পরে মুসলিম ওয়ালিমা। দুই সম্প্রদায়ের অতিথিরা মিলেমিশে একসঙ্গে খাবার খান, আনন্দ ভাগাভাগি করেন এবং এক অসাধারণ ঐক্যের নজির গড়ে তোলেন।
অ্যাডভোকেট নীলেশ শিন্ডে বলেন, “আমরা যখন ভেবেছিলাম বৃষ্টি সাময়িক, পরে বুঝলাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। পাশের হলের মুসলিম পরিবার আমাদের পাশে দাঁড়িয়ে সব ঝামেলা দূর করে দিল।”
সংস্ক্রুতি কাওয়াড়ের ঠাকুরদাদা সান্তারাম কাওয়াড়ে বলেন, “দুই মাসের প্রস্তুতির পর অনুষ্ঠান যদি ভেসে যেত, তা হত মর্মান্তিক। কিন্তু কাজী পরিবারের সহানুভূতি আমাদের হৃদয়ে গভীর ছাপ রেখেছে।”
তিনি আরও জানান, “আমাদের মেয়ের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ দিনে মুসলিম পরিবার যেভাবে সাহায্য করেছে, সেটা শুধু উদারতা নয়, মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।”
ফারুক কাজী বলেন, “যখন দেখি তাদের অনুষ্ঠান ভেস্তে যাচ্ছে, মনে হলো ওরাও আমার মেয়ের মতোই। তাই বাবার মন দিয়ে সাহায্য করার চেষ্টা করেছি। এ ধরনের মুহূর্তে পাশে থাকা নিজেকে ভাগ্যবান মনে করাই।”
রাত শেষে দুই পরিবার আনন্দে মেতে ওঠে, তাদের হাসিখুশি মুহূর্তগুলো এখন ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পুণের এই বিশেষ দিনটি আজ ভারতের সমাজে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।





