ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি নৌ অবরোধ চালিয়ে যায়, তবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে।
ট্রাম্পের পক্ষ থেকে নৌ অবরোধ জোরদার রাখার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, ইরানের অনুমোদিত নিয়ম অনুযায়ীই হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল করবে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, অবরোধ অব্যাহত থাকলে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ আর উন্মুক্ত থাকবে না।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছিলেন, চলমান যুদ্ধবিরতির সময়কালে নির্ধারিত পথে সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খোলা থাকবে। তবে গালিবাফের বক্তব্যে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান ‘লেনদেন’ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নৌ অবরোধ বহাল থাকবে। তিনি দাবি করেন, আলোচনায় ইতোমধ্যে অগ্রগতি হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
এ অবস্থায় গালিবাফ পাল্টা মন্তব্য করে বলেন, এ ধরনের বক্তব্য যুদ্ধ বা কূটনীতিতে কোনো অগ্রগতি আনতে পারবে না। তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাম্প স্বল্প সময়ের মধ্যে একাধিক ভ্রান্ত দাবি করেছেন, যদিও সেগুলো নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেননি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। বৈশ্বিক তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে এই প্রণালির কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব পড়েছে।
এদিকে পারমাণবিক ইস্যু নিয়েও উভয় পক্ষের অবস্থানে স্পষ্ট বিরোধ দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হতে পারে। তবে ইরান তা সরাসরি নাকচ করে জানিয়েছে, তাদের পারমাণবিক উপাদান দেশের বাইরে নেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।






