যা জানা গেল মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে
এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিভিত্তিক একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর প্রস্তাব নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় (কেসুমা) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ডিজিটাল ব্যবস্থাটি এখনও গবেষণা ও পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে বলেছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রস্তাবটি নিয়ে গণমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা থাকায় জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। কোনো প্রতিবেদন বা বিবৃতি যদি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত, তবে তা সম্পূর্ণ অসত্য এবং সরকারের প্রকৃত অবস্থানের সাথে সাংঘর্ষিক।
মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, বর্তমানে শ্রম উৎস দেশ এবং বিভিন্ন শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের সাথে প্রাথমিক আলোচনার মাধ্যমে প্রস্তাবটি মূল্যায়ন ও পরিমার্জন করা হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথেই কোনো ধরনের প্রতিশ্রুতি বা চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়নি।
সরকারের প্রস্তাবিত এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য হলো বিদেশি কর্মী ব্যবস্থাপনায় সুশাসন নিশ্চিত করা এবং ‘ঋণ-দাসত্ব’ বা জবরদস্তিমূলক শ্রমের মতো সমস্যা দূর করা। এই পদ্ধতিতে নিয়োগকর্তারা সরাসরি তাদের প্রকৃত চাহিদার ভিত্তিতে কর্মী নিয়োগ করতে পারবেন এবং নিয়োগের সকল খরচ তারাই বহন করবেন।
ফলে কর্মীদের ওপর কোনো আর্থিক বোঝা পড়বে না এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমবে। এটি সম্পূর্ণভাবে মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং বিদ্যমান সরকারি ব্যবস্থার এফডব্লিউসিএমএস ও এনআইআইএসই এর সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগকে ইতিমধ্যে স্বাগত জানিয়েছে ফেডারেশন অফ মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারার্স (এফএমএম), মালয় চেম্বার অব কমার্স, এসিসিসিআইএম এবং এমএআইসিসিআইসহ প্রধান শিল্প সংগঠনগুলো।
এছাড়া বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া ও ভারতের মতো শ্রম উৎস দেশগুলোও স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির এই প্রচেষ্টাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, এই প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ার বেসরকারি নিয়োগ সংস্থাগুলোর ভূমিকা অপরিবর্তিত থাকবে এবং নিয়োগকর্তা প্রয়োজনে তাদের সহায়তা নিতে পারবেন।






