এবার ধেয়ে আসছে উল্কাবৃষ্টি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : এপ্রিলের শেষার্ধে যেন নতুন রূপে সেজে উঠেছে রাতের আকাশ। গ্রহের কুচকাওয়াজ আর পূর্ণিমার রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে এক অনন্য মহাজাগতিক আয়োজন।
এই সময়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ লাইরিড উল্কাপাত। প্রতিবছরের মতো এবারও পৃথিবী অতিক্রম করছে থ্যাচার নামের একটি ধূমকেতুর ফেলে যাওয়া ধুলিকণার মেঘ। আর সেই কারণেই সৃষ্টি হচ্ছে চোখ ধাঁধানো উল্কাবৃষ্টি।
মহাকাশ গবেষকদের মতে, আকাশ পরিষ্কার থাকলে প্রতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ২০টি পর্যন্ত উজ্জ্বল উল্কা দেখা যেতে পারে। আইইউবির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ আশরাফ উদ্দিন বলেন, ধূমকেতু যখন চলে যায়, তখন তার লেজের কিছু অংশ সৌরজগতে থেকে যায়। পৃথিবীর কক্ষপথ সেই অঞ্চলের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করলে ওই কণাগুলো আকাশের একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে উল্কাপাত হিসেবে দেখা যায়।
তিনি আরও বলেন, উল্কাগুলো যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে ঘর্ষণে পুড়ে যায়, তখন তা খুব অল্প সময়ের জন্য দেখা যায়। আমাদের দেশে আলোর দূষণ বেশি থাকায় অনেক সময় এই দৃশ্য চোখ এড়িয়ে যেতে পারে।
তাই শহরের কোলাহল ও আলোর দূষণ থেকে দূরে, খোলা আকাশের নিচে দাঁড়ালে এই উল্কার ঝলক দেখা সম্ভব। বিশেষ করে মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত সময়টি পর্যবেক্ষণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।
এই ক্ষণস্থায়ী আলোর ঝলক আসলে মহাকাশের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা চোখের সামনে ঘটে কয়েক সেকেন্ডেই। মহাকাশের এই ক্ষুদ্র কণার জ্বলে ওঠা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মহাবিশ্ব কতটা বিশাল এবং রহস্যময়।
সব মিলিয়ে, এপ্রিলের এই সময়টি শুধু জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্যই নয়, সাধারণ মানুষের জন্যও হতে পারে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা। একটু সময় নিয়ে আকাশের দিকে তাকালেই দেখা মিলতে পারে মহাবিশ্বের অপূর্ব এক আয়োজন।
আইইউবির স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স বিভাগের স্টোর ফর অ্যাস্ট্রোনমির পরিচালক ড. খান মুহাম্মদ বিন আসাদ বলেন, ভালোভাবে উল্কাপাত দেখতে হলে অন্ধকার জায়গায় গিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়, যাতে চোখ অন্ধকারে অভ্যস্ত হয়ে যায়। এরপর ধীরে ধীরে উল্কাপাত দেখা শুরু হয়। এগুলো খুব বেশি উজ্জ্বল না হলেও মাঝে মাঝে হঠাৎ করে উজ্জ্বল আলোর ঝলক দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আকাশ পরিষ্কার থাকলে এই সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়। কারণ, প্রকৃতির এই মহাজাগতিক আয়োজন খুব অল্প সময়ের জন্যই দৃশ্যমান থাকে।






