ঢাকা   শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

ভারতকে ‘নরক’ বললেন ট্রাম্প, যা বলছে নয়াদিল্লি

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০১ পিএম

ভারতকে ‘নরক’ বললেন ট্রাম্প, যা বলছে নয়াদিল্লি

ভারতকে ‘নরক’ বললেন ট্রাম্প, যা বলছে নয়াদিল্লি

এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের সপক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতকে অত্যন্ত অপমানজনকভাবে ‘নরক’ বলে অভিহিত করেছেন। 

ট্রাম্পের এই মন্তব্য কেবল ভারত সরকারকেই ক্ষুব্ধ করেনি, বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ভারতীয়-আমেরিকান সম্প্রদায় ও আইনপ্রণেতাদের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

ট্রাম্পের শেয়ার করা সেই পোস্টে অভিযোগ করা হয়, ভারত ও চীনের মতো দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সন্তানদের জন্ম দিয়ে ‘তাৎক্ষণিক নাগরিকত্ব’ সুবিধা গ্রহণ করছে এবং এরপর পুরো পরিবারকে সেখানে নিয়ে আসছে। এছাড়া কারিগরি বা টেক সেক্টরে কর্মরত ভারতীয়দের সম্পর্কেও অবমাননাকর মন্তব্য করা হয় সেখানে। বলা হয়, ভারতীয় অভিবাসীরা তাদের কর্মস্থলে সাদা চামড়ার স্থানীয় মার্কিনিদের বদলে নিজেদের দেশের লোকদের প্রাধান্য দিচ্ছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বক্তব্যটি স্পষ্টতই ভুল তথ্যনির্ভর, অনুপযুক্ত এবং কুরুচিপূর্ণ। জয়সওয়াল আরও যোগ করেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক সবসময় পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অভিন্ন লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে; ট্রাম্পের এই মন্তব্য কোনোভাবেই সেই বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে না।

মার্কিন কংগ্রেসের দীর্ঘমেয়াদী সদস্য এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত অমি বেরা ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছেন, একজন ধনী ও প্রভাবশালী পরিবারে জন্ম নেওয়া ব্যক্তির পক্ষে অভিবাসীদের কঠোর পরিশ্রম বোঝা সম্ভব নয়। তিনি ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে ‘অজ্ঞতা’ এবং প্রেসিডেন্টের মর্যাদার অবমাননা বলে উল্লেখ করেছেন। রাজা কৃষ্ণমূর্তিও এই ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি মনে করেন এটি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভাবনী শক্তি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে খাটো করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই মন্তব্য আগামী মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ভারত সফরের আগে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির জন্ম দিল। গত দুই দশকে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য এবং প্রযুক্তিতে যে বিশাল অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে, ট্রাম্পের এই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ ও কড়া অভিবাসন নীতি তার সামনে একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে এইচ-ওয়ান বি ভিসা ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সূত্র: এএফপি।

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!