যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যের দিন শেষ হয়ে গেছে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই নিক। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর বিশ্বের স্বাধীন দেশগুলোর ওপর তাদের নিজস্ব নীতি ও ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার অবস্থানে নেই।
মঙ্গলবার সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের সম্মেলনে যোগ দিতে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে পৌঁছে তিনি এসব কথা বলেন।
তালাই নিক বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র্র এখন আর স্বাধীন দেশগুলোর ওপর নিজের নীতি চাপিয়ে দেওয়ার অবস্থানে নেই, ইরানের জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিরোধের মাধ্যমে এই বাস্তবতা বিশ্বের কাছে এখন প্রমাণিত।”
তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রকে অবশেষে এটি মেনে নিতে হবে যে তাদের অবৈধ ও অযৌক্তিক দাবিগুলো পরিত্যাগ করার সময় এসেছে।”
ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র আরো উল্লেখ করেন, পুরো বিশ্ব এখন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি শাসন ব্যবস্থাকে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদের প্রতীক’ হিসেবে চেনে।
তিনি আরও বলেন, “নিরপরাধ মানুষ, বিশেষ করে শিশু এবং মিনাব স্কুলের শিক্ষার্থীদের গণহত্যাকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্লজ্জ অপরাধগুলো পশ্চিমা বিশ্বের দাবি করা তথাকথিত মানবিক মূল্যবোধের মুখোশ খুলে দিয়েছে।”
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তাৎক্ষণিকভাবে ইরানও পাল্টা হামলা শুরু করে। জবাবে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় ভয়াবহ হামলা চালায় ইরানি বাহিনী। এতে অগ্নিগর্ভে পরিণত হয় গোটা মধ্যপ্রাচ্য। সেই সঙ্গে বন্ধ করে দেয় বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী। এতে গোটা বিশ্বে জ্বালানি অস্থিরতা দেখা দেয়।
টানা ৩৯ দিন যুদ্ধ শেষে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। গত ৮ এপ্রিল থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
সাময়িক যুদ্ধবিরতির সময়ে পাকিস্তানে শান্তি আলোচনায় বসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু সেই আলোচনা ব্যর্থ হয়।
সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলে এক রকম একক সিদ্ধান্তেই অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে আবারও আলোচনায় বসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইরান দ্বিতীয় দফায় আলোচনায় বসতে রাজি হয়নি।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের সম্মেলনে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তালাই-নিক ঘোষণা করেন যে, ইরান তার সামরিক ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এবং ‘শত্রু দমনের অভিজ্ঞতা’ স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে, বিশেষ করে এসসিও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ভাগ করে নিতে আগ্রহী।
তিনি এসসিও-কে বর্তমানের একমেরু কেন্দ্রিক বিশ্ব ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে একটি বহুমুখী বিশ্বের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য জাতি ও সরকারগুলোর আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেন।
বিশকেকে পৌঁছানোর পরপরই তালাই নিক এসসিও’র প্রভাবশালী সদস্য কিরগিজস্তান, রাশিয়া, পাকিস্তান এবং বেলারুশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। সূত্র: প্রেস টিভি
বার্তা বাজার/এমএমএইচ






