যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মার্কিন নৌবাহিনীর এই গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধজাহাজটির নাম ইউএসএস হিগিন্স। এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে এবং আগুন লাগার ফলে জাহাজটির বিদ্যুৎ ও চলাচল ব্যবস্থা সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়ে। যদিও হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, মার্কিন নৌবাহিনীর গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস হিগিন্সে চলতি সপ্তাহের শুরুতে বড় ধরনের আগুন লেগেছে। যার ফলে জাহাজটির বিদ্যুৎ ও প্রপালশন (চালনা) ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে বলে বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে সিবিএস নিউজ জানায়, বুধবার পর্যন্ত ক্রু সদস্যদের মধ্যে কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। কীভাবে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাহাজটি ঠিক কোথায় ছিল তা এখনও স্পষ্ট নয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং মেরামতে কত সময় লাগবে, সেটিও এখনও নির্ধারিত হয়নি।
এশিয়ায় মার্কিন নৌবাহিনীর ফরোয়ার্ড-ডিপ্লয়েড বাহিনীর অংশ ইউএসএস হিগিন্সকে সর্বশেষ চলতি বছরের শুরুতে সিঙ্গাপুর বন্দরে নোঙর করা অবস্থায় দেখা গিয়েছিল বলে জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে সিবিএস নিউজের খবরে বলা হয়, গত মঙ্গলবার এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, আগুন লাগার ফলে জাহাজটির বিদ্যুৎ ও চলাচল ব্যবস্থা অচল হয়ে যায়। তবে আগুনটি একটি নির্দিষ্ট যন্ত্রাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল এবং তা ছড়িয়ে পড়েনি। বুধবার পর্যন্ত কোনও মার্কিন নৌসেনা সদস্য আহত হননি বলেও নিশ্চিত করা হয়।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক কর্মকর্তা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সমুদ্রে থাকা অবস্থায় ইউএসএস হিগিন্সে আগুন লাগে। ক্রুরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জাহাজটি বর্তমানে চলাচল করছে। ঘটনার কারণ তদন্তাধীন।’
মার্কিন নৌবাহিনী ঘটনাটিকে ‘ইলেকট্রিক্যাল ক্যাজুয়ালটি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যার অর্থ এটি বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড নয়, বরং জাহাজের একটি জেনারেটরে শর্ট সার্কিটের কারণে আগুন লাগে। এর আগে চলতি মাসেই বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস ডোয়াইট ডি. আইজেনহাওয়ারে ছোট একটি অগ্নিকাণ্ডে আটজন নৌসেনা আহত হন বলে ইউএস নেভাল ইনস্টিটিউট জানিয়েছে। এছাড়া আরেক রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডের লন্ড্রি বিভাগেও আগুন লেগে দুইজন নাবিক আহত হন।
এদিকে ফোর্ড ও তার সঙ্গে থাকা স্ট্রাইক গ্রুপ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়বে বলে সিবিএস নিউজকে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ওই জাহাজটি ওই অঞ্চলে মোতায়েন থাকা তিনটি বিমানবাহী রণতরীর একটি।
জাপানের ইয়োকোসুকায় ঘাঁটি থাকা ইউএসএস হিগিন্স মার্কিন নৌবাহিনীর সপ্তম নৌবহরের অংশ এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এই কমান্ড বিশ্বের অর্ধেকের বেশি অঞ্চলে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম তদারকি করে।
এই জাহাজটির নামকরণ করা হয়েছে ভিয়েতনাম যুদ্ধের অভিজ্ঞ মেরিন কর্নেল উইলিয়াম হিগিন্সের নামে। তিনি ১৯৮৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে থাকাকালে হিজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট যোদ্ধাদের হাতে অপহৃত হন। পরে তাকে নির্যাতন ও জিজ্ঞাসাবাদের পর হত্যা করা হয়। ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে বৈরুতের একটি সড়ক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বার্তা বাজার/এস এইচ






