ঢাকা   শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
Logorb
রেডিও বার্তা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি
খুঁজছি: বিভাগীয় প্রধান

গোপন পরিকল্পনা: ইরানকে ড্রোন সহায়তায় আমেরিকানদের হত্যার ছক রাশিয়ার

Authorরেডিও বার্তা ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ১২:৪২ এএম

গোপন পরিকল্পনা: ইরানকে ড্রোন সহায়তায় আমেরিকানদের হত্যার ছক রাশিয়ার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে ইরানের ড্রোন সক্ষমতা। বিশেষ করে জ্যাম-প্রতিরোধী ও দূরপাল্লার ড্রোন প্রযুক্তি যুদ্ধের সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। এ সক্ষমতার পেছনে রাশিয়ার সরাসরি ভূমিকার ইঙ্গিত মিলেছে একটি গোপন নথিতে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) এ তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিআরইউ ইরানকে উন্নতমানের ফাইবার-অপটিক ড্রোন ও স্যাটেলাইট-নিয়ন্ত্রিত দূরপাল্লার ড্রোন সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছিল। শুধু অস্ত্র সরবরাহ নয়, এসব ড্রোন পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল নথিতে।

১০ পৃষ্ঠার ওই নথিতে ছয়টি সামরিক ডায়াগ্রাম এবং ইরানের উপকূলীয় দ্বীপগুলোর একটি মানচিত্র অন্তর্ভুক্ত ছিল। যদিও নথিতে কোনো তারিখ উল্লেখ নেই, তবে ধারণা করা হচ্ছে এটি যুদ্ধ শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তৈরি করা হয়েছিল। সে সময় আশঙ্কা ছিল, যুক্তরাষ্ট্র খারগ দ্বীপ দখল বা হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে স্থল অভিযান চালাতে পারে।

নথি অনুযায়ী, রাশিয়া ইরানকে পাঁচ হাজার স্বল্পপাল্লার ফাইবার-অপটিক ড্রোন দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এসব ড্রোন বেতার তরঙ্গের বদলে ফাইবার-অপটিক লাইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়, ফলে ইলেকট্রনিক জ্যামিং কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। ইউক্রেন যুদ্ধে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাশিয়া উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে।

এ ছাড়া স্টারলিংক টার্মিনাল ব্যবহার করে পরিচালিত দূরপাল্লার ড্রোনের কথাও উল্লেখ রয়েছে পরিকল্পনায়। এসব ড্রোন শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা এড়িয়ে গভীর এলাকায় হামলা চালাতে সক্ষম। রাশিয়া ইউক্রেনে একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও সরবরাহ লাইন ধ্বংস করেছিল।

তবে পরে স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্ক ইউক্রেনের অনুমোদিত টার্মিনাল ছাড়া অন্য সব স্টারলিংক সংযোগ বন্ধ করে দিলে রুশ বাহিনীর সেই সুবিধা সীমিত হয়ে যায়। নথিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে এমন সীমাবদ্ধতা না থাকায় প্রযুক্তিটি সেখানে আরও কার্যকর হতে পারে।

গোপন পরিকল্পনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। নথিতে বলা হয়েছে, রাশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রায় ১০ হাজার ইরানি শিক্ষার্থীর মধ্য থেকে সম্ভাব্য ড্রোন অপারেটর বাছাইয়ের পরিকল্পনা ছিল। পাশাপাশি তাজিক ও সিরিয়ার আলাউয়ি সম্প্রদায়ের সদস্যদেরও অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা করা হয়েছিল, কারণ তারা রুশ ও পার্সি—উভয় ভাষায় দক্ষ।

জিআরইউর মূল্যায়নে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে বা খারগ দ্বীপ দখলে অভিযান চালায়, তাহলে ধীরগতির মার্কিন ল্যান্ডিং ক্রাফটগুলো ড্রোন হামলার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে। নথির একটি ডায়াগ্রামে দেখানো হয়, কীভাবে ১৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূর থেকে একসঙ্গে পাঁচ-ছয়টি ড্রোন ছুড়ে নৌযানে হামলা চালানো সম্ভব।

আঞ্চলিক গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, নথিটির সত্যতা পুরোপুরি যাচাই করা না গেলেও এর তথ্যকে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে। রুশ গোয়েন্দা সংস্থাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টো গ্রোজেভের মতে, এটি ইরানকে সহায়তায় রাশিয়ার আগ্রহ ও দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতার আরও একটি ইঙ্গিত।

এর আগে পশ্চিমা গোয়েন্দারা দাবি করেছিলেন, রাশিয়া ইরানকে উন্নত সংস্করণের শাহেদ ড্রোন সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০২২ সালে ইরানের কাছ থেকে শাহেদ ড্রোন কেনার পর রাশিয়া নিজস্ব সংস্করণ তৈরি শুরু করে। রুশ সংস্করণগুলো আকাশ প্রতিরক্ষা ফাঁকি দিতে বেশি কার্যকর এবং ভারী বিস্ফোরক বহনে সক্ষম।

তবে নথিতে এটিও উল্লেখ করা হয়েছে যে ইউক্রেনে দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে রাশিয়া নিজেও সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে। ফলে ইরানকে বড় পরিসরে সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত হতে পারে।

একই সঙ্গে নথিতে সতর্ক করা হয়েছে, ইরানের যুদ্ধে অতিরিক্তভাবে জড়িয়ে পড়লে রাশিয়ার জন্য রাজনৈতিক ও সামরিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবু সীমিত সহায়তাও যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক অভিযানকে জটিল করে তুলতে সক্ষম বলে মনে করছে মস্কো।

সূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট

নিয়োগ চলছে
সংবাদকর্মী আবশ্যক
রেডিও বার্তা টিমে যোগ দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ুন
পরবর্তী সংবাদ আসছে...
লিংক কপি হয়েছে!