জাপানের ওকাইয়ামা প্রিফেকচারের সোজা শহরের একটি প্রতিষ্ঠান মুসলিম পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করেছে ছোট আকারের বিশেষ নামাজের কক্ষ। উদ্যোক্তাদের আশা, এই উদ্যোগ মুসলিম ভ্রমণকারীদের জন্য জাপান সফরকে আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলবে।
‘প্রেয়ার স্পেস’ নামের এই ছোট প্রার্থনা কক্ষটি তৈরি করেছে ওএম কিকি নামের একটি কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি মূলত কল্যাণমূলক ও বিভিন্ন সহায়ক সরঞ্জাম তৈরি করে থাকে। তবে নতুন এই উদ্যোগের পেছনে ছিল এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা।
প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মী মালয়েশিয়ার এক মুসলিম বন্ধুকে নিয়ে ওকায়ামা অঞ্চলে ভ্রমণে গিয়েছিলেন। সেই সময় তার বন্ধু নামাজ আদায়ের জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজে পেতে বেশ সমস্যায় পড়েন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই মুসলিমদের জন্য সহজে স্থাপনযোগ্য একটি প্রার্থনা কক্ষ তৈরির ধারণা আসে।
গত ডিসেম্বর থেকে বাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে এই ‘প্রেয়ার স্পেস’। কাঠের তৈরি ছোট এই কক্ষটির উচ্চতা ১৮০ সেন্টিমিটার এবং মেঝের আকার ১৫০ সেন্টিমিটার বর্গাকার। মুসলিমদের দিনে কয়েকবার নামাজ আদায় করতে হয় এবং নামাজের আগে অজুর জন্য হাত, মুখ, পা ও চুল পানি দিয়ে পরিষ্কার করতে হয়।
এ কারণে কক্ষটির মেঝেতে ব্যবহার করা হয়েছে পানি-প্রতিরোধী ও সহজে পরিষ্কার করা যায় এমন বিশেষ ম্যাট। এছাড়া ছাদের সঙ্গে একটি ঘূর্ণনযোগ্য কিবলা নির্দেশক বসানো হয়েছে, যাতে সহজেই মক্কার দিক নির্ধারণ করা যায়।
মুসলিম পর্যটকদের চাহিদা বুঝতে একটি জরিপও চালানো হয়। জাপান ভ্রমণ করা মুসলিমদের মধ্যে করা ওই জরিপে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ভ্রমণ গন্তব্যে নামাজের জায়গা থাকা তাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
১০৭ জন উত্তরদাতার মধ্যে ৭২ শতাংশ পুরুষ এবং ৭৯ শতাংশ নারী জানান, তারা ভ্রমণের স্থান বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থনার জায়গার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন।
এই পণ্যের উদ্ভাবক বলেন, ‘নামাজের জন্য উপযুক্ত জায়গা থাকা মুসলিমদের ভ্রমণ সিদ্ধান্তে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমরা চাই, মানুষ যেন স্বাভাবিকভাবে যেভাবে নামাজ আদায় করেন, সেভাবে বিভিন্ন জায়গায়ও তা করতে পারেন। এতে ভ্রমণ আরও সহজ হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে মুসলিমবান্ধব কর্মপরিবেশও তৈরি হবে।’
জাপানে মুসলিম পর্যটকের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। ফলে দেশটির বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র, হোটেল ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এখন মুসলিমবান্ধব সুবিধা বাড়ানোর দিকেও নজর দিচ্ছে। ‘প্রেয়ার স্পেস’ সেই প্রচেষ্টায় নতুন একটি সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।






