যুক্তরাষ্ট্রের কোনো চাপের মুখে ইরান আত্মসমর্পণ করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তেহরান। তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা নিরসনে যুদ্ধের পথ এড়িয়ে কূটনৈতিক সমাধানকেই সবচেয়ে ‘বুদ্ধিদীপ্ত’ ও যুক্তিসঙ্গত পথ বলে মনে করছে দেশটি। সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, চাপ প্রয়োগ করে ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার ধারণাটি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেছেন যে, চলমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক আলোচনার সব পথ এখনো খোলা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা থাকলেও পর্দার আড়ালে আলোচনার চ্যানেলগুলো এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষভাবে বার্তা আদান-প্রদান চলছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নূর নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, একটি প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভাষা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাকিস্তানের মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া ১৪ দফার মূল প্রস্তাবের ভিত্তিতে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফায় বার্তা বিনিময় হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আসা সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাবটি এখন গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে তেহরান।
কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সামরিক দিক থেকেও নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে ইরান। সম্ভাব্য মার্কিন হামলার হুমকির মুখে দেশি প্রযুক্তিতে তৈরি অত্যন্ত আধুনিক ও উন্নত অস্ত্রের মজুদ রয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরআইএ নোভোস্তিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের একটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, তারা এমন কিছু আধুনিক অস্ত্র তৈরি করেছে যা এখনো কোনো যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার বা পরীক্ষা করা হয়নি। সূত্রটি আরও দাবি করে, যেকোনো পরিস্থিতি বা হামলা মোকাবিলায় তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত এবং এবার তারা আর কেবল ‘সংযমের নীতি’ অবলম্বন করবে না। প্রতিরক্ষা সক্ষমতার দিক থেকে তাদের কোনো ঘাটতি নেই বলেও জানানো হয়।
বার্তা বাজার/এস এইচ





