বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন দীনেশ ত্রিবেদী। হাই কমিশনারের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি নিজ দেশের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
এ সময় দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো জোরদার করা, সীমান্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সামরিক পর্যায়ে পারস্পরিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত তথ্য অধিদপ্তর (এডিজিপিআই) এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার (মনোনীত) শ্রী দীনেশ ত্রিবেদী সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এই আলোচনায় ভারত-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।’
এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাক্ষাৎটি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরো জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ করে সীমান্ত নিরাপত্তা সমন্বয় এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) এবং আসামের জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) সম্পূর্ণভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ আইনি ও প্রশাসনিক বিষয়। এ নিয়ে বাংলাদেশের মন্তব্য করার কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মন্ত্রী আরো জানান, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা জোরপূর্বক প্রবেশের যেকোনো চেষ্টা ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার বিদ্যমান আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে ফেরত চায়। এ বিষয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং আইনানুগ ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, তার বক্তব্যে স্পষ্ট যে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বর্তমানে কীভাবে একটি বড় কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা আঞ্চলিক কূটনীতির একটি রূপান্তরমূলক পর্যায়কে চিহ্নিত করছে।
এএনএআই লিখেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে এই সম্পর্ক অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও পারস্পরিক স্বার্থের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি এমন এক সময়ে তৈরি হয়েছে যখন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিরাপত্তা উদ্বেগ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে একটি জটিল পর্যায় অতিক্রম করছে।






