অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসলামিক ওয়াকফ পরিচালিত মুসলমানদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নিদর্শন নবী সুলাইমান (আ)-এর সমাধিস্থল দখলের আদেশ জারি করেছে ইসরাইল। মঙ্গলবার ২৮ একর জমি অধিগ্রহণ করার ঘোষণা দেয় ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। এই জমির মধ্যেই ফিলিস্তিনি শহর বেইত ইক্সা এবং ঐতিহাসিক নবী সুলাইমান মসজিদ অবস্থিত।
ইসরাইলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি ইউনিটের অধীনস্থ বেসামরিক প্রশাসন জানায়, এলাকাটি ‘জনস্বার্থে’ দখল করা হচ্ছে।
ইসরাইল বলছে, নবী সোলাইমান (আ)-এর সমাধির প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানটি সংরক্ষণের জন্য তারা একটি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেবে।
কিন্তু ফিলিস্তিনি বিশ্লেষকরা বলছেন যে, এই পদক্ষেপটি ‘ইহুদীকরণ’-এর আরো একটি উদাহরণ। সোলাইমান (আ) ইহুদি, খ্রিস্টান এবং মুসলিম ঐতিহ্যে গুরুত্বপূর্ণ একজন নবী।
সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহাসৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা
বাইজেন্টাইন যুগে, সম্রাট জাস্টিনিয়ান সেই স্থানে একটি গির্জা নির্মাণের আদেশ দিয়েছিলেন যেখানে সোলাইমান (আ) কে সমাহিত করা হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়।
স্থানটি জেরুজালেমের ৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে একটি পাহাড়ের চূড়ায়, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮৮৫ মিটার উপরে অবস্থিত। এরপর মুসলিম শাসকরা সোলাইমান (আ) এর স্মরণে সেই স্থানে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করেন।
এখন সেখানে যে মসজিদটি রয়েছে, তাতে আইয়ুবী ও মামলুক আমলের স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এর মধ্যে একটি সমাধিও রয়েছে, যা মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী সোলাইমান (আ) এর কবর।
মানচিত্র, সীমান্ত, বসতি এবং জেরুজালেম শহর বিষয়ক বিশেষজ্ঞ খলিল তুফাকজি মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ‘এগুলো ইসলামিক ওয়াকফ [ধর্মীয় দান], আলামি পরিবারের একটি বংশানুক্রমিক ওয়াকফ।’
১৯৬৭ সালে ইসরাইল পশ্চিম তীর দখল করার পর থেকে, তারা নবী সোলাইমান (আ) এর সমাধিস্থল এলাকায় ক্রমান্বয়ে পরিবর্তন এনেছে।
এর মধ্যে রয়েছে ভূগর্ভস্থ সেই কক্ষে একটি সিনাগগ নির্মাণ, যেখানে সোলাইমান (আ) এর সমাধি রয়েছে বলে বিশ্বাস করা হয়। সময়ের সাথে সাথে, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ মুসলিমদের প্রার্থনার স্থানের আকার কমিয়ে দিয়েছে এবং ক্রমবর্ধমানভাবে স্থানটির স্থাপনাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
বার্তা বাজার/এস এইচ






