মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সপ্তাহে জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার বিনিময়ে কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশগুলোকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে। এজন্য তাদেরকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে স্বাক্ষর করতে বলেন তিনি।
কিন্তু ট্রাম্প যেসব দেশের নাম উল্লেখ করেছেন, তাদের কোনোটির কাছ থেকেই প্রায় কোনো ধরনের সাড়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা বলেছেন, ট্রাম্পের এই শেষ মুহূর্তের শর্তটি ছিল খুবই আকস্মিক ও অবাস্তব। আঞ্চলিক পর্যবেক্ষক ও কূটনীতিকরা বলছেন, চুক্তি সম্পাদনের জন্য ট্রাম্পের যেসব দেশের সাহায্য প্রয়োজন, তারা এই দাবিকে মোটেই গুরুত্ব দিচ্ছে না।
কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের সিনিয়র ফেলো অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, ‘এটা এক ধরনের বিভ্রান্তিমূলক কৌশল।’
একসময় ইরানে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী কূটনীতিক আসিফ দুররানি সামাজিকমাধ্যম এক্সে বলেন, ‘আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এখন ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার মাধ্যমে তাদের অতিরিক্ত রাজনৈতিক মূল্য বহন করতে বলাটা আঞ্চলিক বিভেদ দূর করার পরিবর্তে তা আরো গভীর করার ঝুঁকি তৈরি করবে।’
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, জর্ডান ও বাহরাইনের মতো দেশগুলো ইরানের ওপর প্রাথমিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি হামলায় সরাসরি অংশ না নিলেও, তারা ইরানের ধারাবাহিক পাল্টা আক্রমণের সম্মুখীন হয়েছে।
ট্রাম্প সোমবার একটি পোস্টে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের কাছে এই ব্যতিক্রমী পারস্পরিক লেনদেনের প্রস্তাবট দেন। তিনি বলেন, সপ্তাহান্তে তিনি এই দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের নেতৃত্বে চালানো হামলার পর গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের যুদ্ধ পুরো মুসলিম বিশ্বে ইহুদি রাষ্ট্রটির বিরুদ্ধে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। যদিও উপসাগরীয় অঞ্চলের অনেক সরকার এখন ইরানকে অনেক বড় হুমকি হিসেবে দেখছে, তারপরও ইসরাইল এখনো ব্যাপকভাবে অজনপ্রিয়।
ট্রাম্পের উল্লেখ করা আটটি দেশের কোনোটিই আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এমনকি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এই মন্তব্য নিয়ে কিছুই বলেননি এবং তার কোনো শীর্ষ মিত্রও কিছু বলেননি।
বিশ্লেষকরা বলেছেন, ট্রাম্পের তালিকায় থাকা যে তিনটি দেশের বর্তমানে ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, তারা আব্রাহাম চুক্তিকে ইরান যুদ্ধ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিষয় হিসেবে দেখে। সৌদি আরব ও কাতার বলেছে, তেলআবিব ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর তারা ইসরাইলকে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মধ্যপ্রাচ্যের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা আসলে কোনো চাপই অনুভব করছি না। আমাদের জন্য ২০০২ সাল থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। আমরা অনেক আগেই এটা স্পষ্ট করে দিয়েছি যে, আব্রাহাম চুক্তিতে যোগদান ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি বিশ্বাসযোগ্য পথ তৈরির শর্তসাপেক্ষ হবে।’
সূত্র: এনবিসি নিউজ
বার্তা বাজার/এস এইচ






