‘সীমান্ত বিরোধ কোনও একতরফা বিষয় নয়’, সংসদে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র বালেন শাহর এমন মন্তব্যের জেরে তীব্র রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে নেপাল। এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনীতিতে তুমুল ঝড় উঠেছে। রাজপথ থেকে সংসদ সবখানেই এখন বিরোধী দল ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বিক্ষোভের ঢেউয়ে ভর করে মাত্র কয়েক মাস আগে ক্ষমতায় আসা এই তরুণ প্রধানমন্ত্রীকে এখন নিজের গদি টেকাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। ভারতের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা এএনআই এবং নেপালের দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট এ খবর জানিয়েছে।
মূলত কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরা অঞ্চল নিয়ে ভারত ও নেপালের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বারবার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই অঞ্চলগুলো ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এ বিষয়ে তাদের অবস্থান সুনির্দিষ্ট, ধারাবাহিক ও অখণ্ডনীয়।
গত রবিবার নেপালের সংসদে এই দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ নিয়ে আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রী ব্যালেন শাহ বলেন, সীমান্তের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে নেপাল ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই নেপালের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। কাঠমান্ডুর মাইতিঘর মন্ডলা-তে সোমবার নেপালি কংগ্রেস সমর্থিত ‘তরুণ দল’ এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন বিক্ষোভ সমাবেশ করে। তারা প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা এবং এই বক্তব্য সরকারি রেকর্ড থেকে মুছে ফেলার দাবি জানান। একপর্যায়ে তারা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যালেন শাহ এই বিরোধ মেটাতে দুই দেশের ইতিহাসবিদ, জরিপকারী ও বিশেষজ্ঞদের ওপর ভরসা করার আহ্বান জানান। এমনকি ঔপনিবেশিক আমলের মানচিত্রের কথা উল্লেখ করে তিনি এই বিষয়ে যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত দেন। তিনি বিষয়টিকে একতরফা অভিযোগ না করে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দেন।
তবে গত মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে এই বিষয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা থাকার কথা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, সীমান্ত সংক্রান্ত যেকোনও বিষয় সম্পূর্ণ দ্বিপাক্ষিক এবং দুই দেশের বিদ্যমান ব্যবস্থার মাধ্যমেই এর সমাধান করা হচ্ছে।
এর আগে নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির আমলে বিতর্কিত অঞ্চলগুলোকে নিজেদের দাবি করে দেশের নতুন মানচিত্র অনুমোদন করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, কাঠমান্ডুর মেয়র থাকাকালীন বালেন শাহ তার কার্যালয়ে বৃহত্তর নেপালের একটি মানচিত্র ঝুলিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন, যা ভারতের সংসদে প্রদর্শিত ‘অখণ্ড ভারত’ মানচিত্রের পাল্টা জবাব হিসেবে দেখা হয়েছিল।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে






